দেশের রাজধানীর আকাশ ছেঁয়েছে কালো ধোঁয়াশায়। বাতাসে দূষণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক (Delhi air crisis)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূলকিনারা পাচ্ছে না প্রশাসন। অবশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণ রোধে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেওয়া একগুচ্ছ নতুন কঠোর নিয়ম বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র বা পিইউসি (PUC) না থাকলে কোনো গাড়িকে জ্বালানি দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে দিল্লির বাইরের বিএস-সিক্স (BS-VI) নির্গমন বিধির নিচে থাকা বেসরকারি গাড়িগুলির প্রবেশের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে দিল্লিতে গ্র্যাপ ফোর (GRAP IV) বা ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’-এর চতুর্থ পর্যায়ের বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে।
‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ অভিযান (Delhi air crisis)
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ সকাল থেকেই দিল্লির পেট্রোল পাম্পগুলি নতুন চিত্র ধরা পড়ছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ নীতি বলবৎ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেসব গাড়ির বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র নেই, তাদের পেট্রোল বা ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। দিল্লির সর্বত্র এই নিয়ম ঠিকঠাক পালন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। আবার কড়া নজরদারিও চালানো হচ্ছে।
মজার বিষয়, রাজধানীর প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে এখন নম্বর প্লেট শনাক্তকরণের জন্য সয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গাড়ির নম্বর যাচাই করে দেখা হচ্ছে সেগুলির পিইউসি শংসাপত্র বৈধ কি না। এখানেই শেষ নয়। পেট্রোল পাম্পগুলিতে সতর্কতামূলক বার্তা বাজানো হচ্ছে। পরিবহণ দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম বা এনফোর্সমেন্ট দলগুলি বিভিন্ন পাম্পে নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রকাশিত বাংলার SIR খসড়া তালিকা, আপনার নাম রয়েছে? দেখুন এভাবে
দিল্লির বাইরে থেকে আসা বেসরকারি গাড়িগুলির ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লির বাইরের যে সমস্ত বেসরকারি গাড়ি বিএস-সিক্স নির্গমন মানদণ্ডের নিচে, সেগুলিকে আর শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার দূষণ সৃষ্টিকারী পুরোনো ইঞ্জিনের গাড়িগুলি যাতে শহরে প্রবেশ করে বাতাসের গুণমান আরও খারাপ করতে না পারে, সেজন্যই এই কড়া পদক্ষেপ।
ছাড়ের তালিকায় এই গাড়ি
জানিয়ে রাখি, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ডিজেল ও পেট্রোল চালিত পুরোনো যানবাহনের জন্যই প্রযোজ্য। সিএনজি (CNG) এবং বৈদ্যুতিক (Electric Vehicles) গাড়িগুলি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। মূলত গ্র্যাপ ফোর-এর কঠোর নির্দেশিকা মেনে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞাগুলি কেবল খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তবে কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ এবং পরিবহণ দপ্তর। সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে সীমানায় মোট ১২৬টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এই চেকপোস্টগুলিতে কঠোরভাবে নিয়ম পালিত হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য প্রায় ৫৮০ জন পুলিশ কর্মীকে মোতায়েন রয়েছে।
দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলিতে পুলিশ প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা করছে। দূষণের বিধি পালিত না হলেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অথবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক বা অন্যান্য ভারী যানের প্রবেশের ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে Yamaha YZF-R3 এবং MT-03-এর বিক্রি বন্ধ হল, নেপথ্যে কী কারণ?
অন্যদিকে, কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন সিএনজি এবং ইলেকট্রিক গাড়ির পাশাপাশি সমস্ত ধরণের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী যান এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িগুলিকে কোনো বাধা ছাড়াই শহরে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, দুধ, সবজি এবং ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী গাড়িগুলির ক্ষেত্রে কোনো কড়াকড়ি নেই। তবে নির্মাণসামগ্রী বা ধুলোবালি ছড়াতে পারে এমন পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে গ্র্যাপ ফোর বিধিনিষেধ অত্যন্ত কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে দিল্লির বাতাসের বিষাক্ত ধোঁয়াশা (Delhi air crisis) কমিয়ে শহরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
