সোমবার শীতের ভোরে যখন সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অসম (Earthquake in Assam) সহ পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু এলাকা। রিখটার স্কেলে ৫.১ মাত্রার এই কম্পনটি স্থানীয় সময় ভোর ৪টে ১৭ মিনিটে অনুভূত হয়। ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই হঠাৎ কম্পন শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল অসমের মোরগাঁও জেলার কাছাকাছি ভূগর্ভের গভীরে।
অসমে ভূমিকম্প | Earthquake in Assam
কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে যে, কম্পনের গভীরতা এবং তীব্রতা (Earthquake in Assam) এতটাই ছিল যে মোরগাঁও ছাড়াও মধ্য অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং গুয়াহাটির একাংশেও মানুষ শক্তিশালী ঝটকা অনুভব করেছেন। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ খাট ও আসবাবপত্র নড়তে শুরু করায় বহু মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঘর ছেড়ে ফাঁকা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে মোরগাঁও এবং তার আশপাশের জেলাগুলিতে আতঙ্কের মাত্রা ছিল সবথেকে বেশি। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে অন্ধকারের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টা বাইরে কাটিয়েছেন অনেক আতঙ্কিত পরিবার।
আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে নিষিদ্ধ হল পাওয়ার ব্যাঙ্ক! বিমান যাত্রীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা ডিজিসিএ-র
ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই কম্পনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন শুনবেন? কারণ এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবেই ভূকম্পন প্রবণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থলটি মূলত ‘কপিলি ফল্ট লাইন’ বা চ্যুতিরেখার ওপরে অবস্থিত। এর আগেও এই চ্যুতিরেখায় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বিশেষত অসম হল ভারতের সবথেকে সংবেদনশীল সিসমিক জোন বা ‘জোন ৫’-এর অন্তর্ভুক্ত। এই উচ্চ সংবেদনশীলতার কারণেই হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে মাঝে মাঝেই টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে কম্পন অনুভূত হয়।
EQ of M: 5.1, On: 05/01/2026 04:17:40 IST, Lat: 26.37 N, Long: 92.29 E, Depth: 50 Km, Location: Morigaon, Assam.
For more information Download the BhooKamp App https://t.co/5gCOtjdtw0 @DrJitendraSingh @OfficeOfDrJS @Ravi_MoES @Dr_Mishra1966 @ndmaindia pic.twitter.com/6HvwbZHFTZ— National Center for Seismology (@NCS_Earthquake) January 4, 2026
স্বস্তির বিষয় এই যে, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সাধারণত এই ধরনের মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পনের (Earthquake in Assam) পর ছোট ছোট কিছু ‘আফটার শক’ অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় শীতের ভোরে জনজীবনে সাময়িক স্থবিরতা নিয়ে এলেও বড় কোনো বিপদ না ঘটায় আপাতত স্বস্তিতে প্রশাসন।
