আগামী অর্থবর্ষের জন্য লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তৃতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় এই বাজেট মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সেভাবে আলোকপাত করতে পারেনি। প্রত্যাশিতভাবেই এই বাজেটে ভবিষ্যতের বড় পরিকল্পনার ছক থাকলেও, বর্তমানের জ্বলন্ত ইস্যুগুলো অনেকটাই অবহেলিত রয়ে গিয়েছে।
এবারের বাজেটে (Union Budget 2026) সাধারণ মধ্যবিত্তের সবথেকে বড় প্রত্যাশা ছিল আয়কর বা জিএসটি-তে ছাড়। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ভাষণে প্রত্যক্ষ কর বা ডিরেক্ট ট্যাক্স নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা না থাকায় নিরাশ হতে হয়েছে আমজনতাকে। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে মধ্যবিত্তের সঞ্চয় নিয়ে যখন দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন কর কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন না আসায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের মেরুদণ্ড বলে পরিচিত কৃষিক্ষেত্রে বড় কোনো চমক নেই এবারের বাজেটে। মৎস্যচাষ বা নারকেল চাষের মতো কয়েকটি ছোটখাটো ক্ষেত্রে নামমাত্র ঘোষণা থাকলেও, সিংহভাগ কৃষকের জন্য বিশেষ কিছুই নেই। এমনকি ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ বা ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্পে বরাদ্দ না বাড়ায় প্রান্তিক মানুষেরা হতাশ। একই চিত্র অসংগঠিত ক্ষেত্রেও। দেশের অধিকাংশ শ্রমিক এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা বা প্রত্যক্ষ সাহায্যের বিষয়ে বাজেট কার্যত নীরব।
বাজেট ঘোষণার পরপরই শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। অর্থমন্ত্রী সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ কর বৃদ্ধি পাওয়ায় মিউচুয়াল ফান্ড এবং শেয়ার বাজারের লগ্নিকারীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই ঘোষণার পরেই শেয়ার সূচক ১৫০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে বড়সড় রক্তক্ষরণের সাক্ষী থাকল বিনিয়োগকারীরা।
দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব মোকাবিলায় সরাসরি কোনো রোডম্যাপ এই বাজেটে নেই। ইনফ্লুয়েন্সারদের শিক্ষা বা গাইডদের প্রশিক্ষণের মতো কিছু বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানের কোনো সুরাহা মেলেনি। অন্যদিকে, সংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের পেনশনের দাবি বা গ্র্যাচুইটির মেয়াদ কমানোর মতো বিষয়গুলোও আমল পায়নি নির্মলা সীতারমণের খাতায়।
আরও পড়ুন: সেনাদের হার্ট অ্যাটাক রুখতে ডিআরডিও ও মিরান্ডা হাউসের বিশেষ বায়ো-চিপ
সামনেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন থাকলেও বাজেটে রাজনৈতিক কোনো ‘বোনাস’ দিতে দেখা গেল না কেন্দ্রকে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বড়সড় বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে দাবি করছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গে এইমস (AIIMS) বা বড় কোনো শিল্পের ঘোষণা না থাকায় হতাশ বঙ্গবাসী। ডানকুনির ফ্রেট করিডোর, শিলিগুড়ি-বারাণসী সুপারফাস্ট ট্রেন এবং দুর্গাপুরের শিল্প করিডোরের মতো গুটিকতক প্রকল্পের উল্লেখ থাকলেও, সার্বিকভাবে বাংলাকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, নির্মলা সীতারমণের এই বাজেট (Union Budget 2026) কোনোভাবেই জনমোহিনী নয়। ভবিষ্যতের উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি করা হলেও, বর্তমানের অভাব-অভিযোগ মেটাতে এই বাজেট কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘোষণাগুলি কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের মানুষ কতটা উপকৃত হন।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…