চাকরি পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। স্বস্তির খবর শোনাল রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বা আরআরবি (RRB)। রেল মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিভিন্ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এনটিপিসি (গ্র্যাজুয়েট) পদের প্রথম পর্যায়ের কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষার (CBT-I) সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল আরআরবি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। যারা এই পদের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা এখন আরআরবি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত সূচি দেখে নিতে পারবেন।
মোট শূন্যপদ ৫ হাজারের বেশি (RRB)
রেলের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৫,৮১০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এই পদের তালিকায় রয়েছে চিফ কমার্শিয়াল কাম টিকিট সুপারভাইজার, স্টেশন মাস্টার, গুডস ট্রেন ম্যানেজার এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম টাইপিস্ট। এছাড়া সিনিয়র ক্লার্ক কাম টাইপিস্ট এবং ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্যও নিয়োগ করা হবে। পদের অনুযায়ী বেতন কাঠামো লেভেল ৪ থেকে লেভেল ৬-এর মধ্যে রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী আবেদনকারীদের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন। তবে সরকারি নিয়ম মেনে সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য বয়সের ছাড় প্রযোজ্য রয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষার শহর এবং তারিখ দেখার লিঙ্কটি পরীক্ষার দশ দিন আগে সক্রিয় করা হবে। একই সময়ে তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত প্রার্থীরা তাঁদের ট্রাভেল অথরিটি বা যাতায়াতের পাস ডাউনলোড করতে পারবেন। পরীক্ষার মূল ই-কল লেটার বা অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড শুরু হবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার মাত্র চার দিন আগে। রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো আপডেটের জন্য পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওপরই ভরসা রাখতে হবে। কোনো রকম বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভালোবাসা দিবসে কার জীবনে প্রেমের জোয়ার আসবে? দেখুন ভাগ্যের পূর্বাভাস
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আধার-লিঙ্কড বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর জন্য পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই অরিজিনাল আধার কার্ড অথবা ই-ভেরিফাইড আধার কার্ডের প্রিন্টআউট সাথে আনতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের আধার কার্ড ইউআইডিএআই (UIDAI) ডেটাবেসে ‘আনলক’ অবস্থায় রয়েছে। আধার লক থাকলে পরীক্ষা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশনের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথমে হবে প্রথম পর্যায়ের কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা বা সিবিটি-১। এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা অর্থাৎ সিবিটি-২ দিতে হবে। পদের গুরুত্ব অনুযায়ী এরপর কম্পিউটার ভিত্তিক অ্যাপটিটিউড টেস্ট এবং টাইপিং স্কিল টেস্ট নেওয়া হবে। চূড়ান্ত ধাপে থাকবে নথিপত্র যাচাই বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন এবং মেডিকেল টেস্ট। এই ধাপগুলি সফলভাবে উত্তীর্ণ হলেই রেলের এই সম্মানজনক পদগুলিতে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব হবে। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় আছে, তাই পরীক্ষার্থীদের এখন থেকেই পূর্ণ উদ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
