রান্নাঘরের মশলাপাতির মধ্যে এলাচ (Cardamom) এক অতি পরিচিত নাম। এর চমৎকার সুগন্ধ এবং বিশেষ স্বাদ খাবারকে অনন্য করে তোলে। পায়েস, মিষ্টি বা চা – এলাচ ছাড়া যেন সব অপূর্ণ থেকে যায়। তবে এলাচের গুরুত্ব কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর বিশেষ কদর রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও এলাচের ঔষধি গুণাগুণ স্বীকার করে নিয়েছে। এলাচে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার থাকে। এ ছাড়া এতে থাকা জরুরি খনিজ উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
হজমের সমস্যা মেটায় এলাচ (Cardamom)
হজমের সমস্যায় যারা নিয়মিত ভোগেন তাঁদের জন্য এলাচ (Cardamom) হতে পারে মহৌষধ। খাবার খাওয়ার পর এলাচ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস বেশ পুরনো। এটি পেটের গ্যাস, অম্লতা এবং বদহজমের সমস্যা দ্রুত দূর করে। এলাচ আমাদের অন্ত্রকে শিথিল করতে সাহায্য করে যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। ফলে পেট ফাঁপা বা পেট ব্যথার মতো সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। এলাচের সতেজ গন্ধ অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
মুখের দুর্গন্ধ কাটাতেও এলাচ
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এলাচের জুড়ি মেলা ভার। এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে। অনেকের মুখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে বাজে গন্ধ তৈরি হয়। নিয়মিত এলাচ চিবোলে সেই সব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। এর ফলে দাঁত এবং মাড়ি দীর্ঘকাল সুস্থ থাকে। বাজারে অনেক টুথপেস্ট বা মাউথওয়াশে এলাচের নির্যাস ব্যবহার করার প্রধান কারণ এটিই। এলাচ মুখের ভেতরকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।
হৃদয়কে সুস্থ্য রাখে
হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতেও এলাচ বড় ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য নিয়মিত সামান্য এলাচ খাওয়া ভালো। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ধমনিকে সুস্থ রাখে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করতেও এটি সমান কার্যকর। এটি কিডনিকে পরিষ্কার রাখে এবং মূত্রের মাধ্যমে শরীরের বর্জ্য বের করে দেয়। নিয়মিত শরীর ডিটক্স হওয়ার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।
ওজন ঝড়ায়
ওজন কমানোর লড়াইয়ে এলাচ আপনার সঙ্গী হতে পারে। এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি করে। ফলে শরীর দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সক্ষম হয়। অতিরিক্ত মেদ কমানোর পাশাপাশি এটি খিদে নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় জল বের করে দিয়ে পেটের ফোলাভাব কমায়। যারা নিয়মিত ডায়েট করেন তাঁদের জন্য এলাচ মেশানো পানীয় বেশ উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন: অ্যান্টিবায়োটিকের সেবনে ক্ষতি হচ্ছে অন্ত্রের! জানুন প্রতিকার
উদ্বেগ কমায়
মানসিক ক্লান্তি এবং উদ্বেগ কমাতেও এলাচ (Cardamom) কাজ করে। এর বিশেষ সুগন্ধ মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। সারাদিনের কাজের চাপের পর এলাচ দেওয়া চা ক্লান্তি দূর করে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে বলে রাতে ঘুম ভালো হয়। অবসাদ কাটাতেও এলাচের সুগন্ধ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সর্দি বা কাশির সমস্যাতেও এলাচ দারুণ কাজ দেয়। এর উষ্ণ প্রকৃতি গলার ব্যথায় আরাম দেয়। শ্বাসযন্ত্রকে পরিষ্কার রেখে শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতে এটি বেশ কার্যকর। এক কথায় এলাচ কেবল একটি মশলা নয় বরং এটি সুস্থ জীবনযাপনের এক সহজ সমাধান।
