Cicada Covid Variant BA 3.2

করোনা ভাইরাসের একটি নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট (Cicada Covid Variant BA 3.2) নিয়ে বর্তমানে গোটা বিশ্ব তোলপাড়। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিকাডা’। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই নামটি অল্পসময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লেও জানিয়ে রাখি, এটি কোনো বৈজ্ঞানিকের দেওয়া নাম নয়। বর্তমানে গবেষকরা ভাইরাসের এই নতুন ভেরিয়েন্ট নিয়ে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ভাইরাসের মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সার্স-কভ-২-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সিকাডা ভ্যারিয়েন্টটি মূলত ওমিক্রন পরিবারের একটি অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি ওমিক্রন ভাইরাসেরই একটি জিনগত পরিবর্তিত রূপ।

কোথায় এবং কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভ্যারিয়েন্ট? | Cicada Covid Variant BA 3.2

মার্কিন সংস্থা সিডিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিএ ৩.২ (Cicada Covid Variant BA 3.2) সাব-ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম ধরা পড়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এ বছর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের অন্তত ২৩টি দেশে এই সিকাডা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে। আমেরিকায় বিমানযাত্রীদের থেকে প্রাপ্ত নমুনা এবং বিভিন্ন প্রদেশের বর্জ্য জলেও এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। ধীরে ধীরে এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি বিভিন্ন মহাদেশে নিজের বিস্তার ঘটাচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

এটি কি বড় কোনো বিপদের সংকেত?

ফরিদাবাদের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ সন্তোষ কুমার আগরওয়াল এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে এই বিএ.৩.২ বা সিকাডা সাব-ভ্যারিয়েন্টটি এই মুহূর্তে কোনো বড় বিপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এটিকে বর্তমানে ‘ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং’ অর্থাৎ নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে। তাই এটি এখনও তেমন একটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। আক্রান্তদের অধিকাংশের মধ্যেই মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তবে বিএ.৩-এর সাথে এর জিনগত পার্থক্যের কারণে এটি দ্রুত ছড়াতে বা পুনরায় সংক্রমিত করতে সক্ষম। বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাঁদের এই বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আরও পড়ুন: এ বছর মহাবীর জন্মজয়ন্তী কবে? জানুন এর মাহাত্ম্য ও সময়

সিকাডা ভ্যারিয়েন্টের প্রধান উপসর্গ কী কী?

এই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের লক্ষণ আগের করোনা ভ্যারিয়েন্টগুলির মতো অনেকটাই এক। তবে এই ভ্যারিয়েন্টের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক গলা ব্যথা। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শুকনো কাশির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে কাঁপানি দিয়ে জ্বর এবং চরম ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে। এর পাশাপাশি পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং স্বাদ বা গন্ধ চলে যাওয়ার মতো চিরাচরিত লক্ষণগুলিও থাকছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সিকাডা ভ্যারিয়েন্ট (Cicada Covid Variant BA 3.2) নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে মত চিকিৎসকদের। ভাইরাসের এই নতুন রূপটি যেহেতু দ্রুত ছড়াতে পারে তাই জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক। গবেষকরা প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন যাতে কোনো বড় বিপদ আসার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আপাতত এই ভাইরাসটি খুব একটা প্রাণঘাতী না হলেও দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষদের জন্য এটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই হতে পারে এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে সেরা সুরক্ষা কবচ।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved