পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে (Chandranath Rath Murder Case) বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার পুলিশের এক যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। ধৃতদের নাম বিশাল শ্রীবাস্তব, রাজ সিং এবং মায়াঙ্ক মিশ্র। এই তিনজনকে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কূলকিনারা করতে পুলিশের কাছে তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ায় বালি টোল প্লাজায় করা একটি সামান্য ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট। আধুনিক প্রযুক্তির এই সূত্র ধরেই পুলিশ শেষ পর্যন্ত পেশাদার খুনিদের ডেরায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট (Chandranath Rath Murder Case)
গত বুধবার রাত ১০টা থেকে ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের বাড়ির থেকে মাত্র ২০০ মিটারেরও কম দূরত্বে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath Rath Murder Case)। সেই সময় তিনি নিজের মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ির সামনের সিটে বসে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি রুপোলি রঙের নিসান মাইক্রা গাড়ি প্রথমে চন্দ্রনাথের এসইউভি-র পথ আটকায়। এরপরই বাইকে চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। খুনের পর ঘাতক দলটি নিসান মাইক্রা গাড়িটি ফেলে রেখে একটি লাল রঙের গাড়ি এবং বাইকে করে চম্পট দেয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময় লক্ষ্য করে যে, লাল গাড়িটি বালি টোল প্লাজায় একটি ডিজিটাল পেমেন্ট করেছিল। সেই ইউপিআই পেমেন্টের তথ্য যাচাই করতেই বিশাল ও তাঁর সহযোগীদের নাম ও অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: বাড়বে বৃষ্টি, সঙ্গে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট! বঙ্গের আবহাওয়া আপডেট
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই পেশাদার খুনি। বিশাল শ্রীবাস্তব বিহারের বক্সারের বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতি-সহ ১৫টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে – অপরাধে ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়ি এবং বাইকগুলি ছিল চুরির। এমনকি মাইক্রা গাড়িটিতে একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট (WB74AK2270) লাগানো হয়েছিল। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছিলেন যে, নম্বর প্লেটটি টেম্পারিং করা হয়েছিল যাতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করা যায়। গত শুক্রবার পুলিশ একটি বাইকের মালিক বিভাস কুমার ভট্টাচার্যকে খুঁজে পায় এবং জানতে পারে যে বাইকটি বেশ কিছুদিন আগেই চুরি হয়ে গিয়েছিল। আজ এই তিন অভিযুক্তকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও শুভেন্দুর অভিযোগ
এই হত্যাকাণ্ডকে (Chandranath Rath Murder Case) কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ এবং ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, গত ১৫ বছরের ‘মহা জঙ্গলরাজ’-এর প্রতিফলনই হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই চন্দ্রনাথকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাকে সাহায্য করার অপরাধে এবং আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোয় আক্রোশে চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে চারটি গুলি চালানো হয়েছিল, যা প্রমাণ করে এটি পরিকল্পিত ছিল।” অন্যদিকে, নিহত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন এবং এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক ‘গুন্ডাগিরি’-কেই দায়ী করেছেন।
