আসন্ন দোল পূর্ণিমা ও হোলির মরশুমে দিঘাগামী পর্যটকদের জন্য সুখবর শোনাল দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে (Holi Special Train)। সৈকতশহর দিঘায় পর্যটকদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক করতে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দোলের ছুটিতে যারা সমুদ্র দর্শনে যেতে চান, তাঁদের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় নিত্যযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
বাড়ল দিঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনের মেয়াদ (Holi Special Train)
রেল সূত্রের খবর, দিঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনের (Holi Special Train) সময়সীমা এক ধাক্কায় টানা ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর আগে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় পর্যটকদের ভিড় সামলাতে এই ট্রেনটি চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ট্রেনটির চলাচলের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই নতুন সময়সীমা কার্যকর হয়েছে। সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতে চলেছে, তারপর পর্যটকদের ঢল নামবে দিঘায়। সেই ভিড় সামলাতেই এই আগাম প্রস্তুতি।
ট্রেনের সময়সূচি ও রুট
রেল জানিয়েছে, ০৮১১৭ আপ স্পেশাল ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় পাঁশকুড়া স্টেশন থেকে ছাড়ছে। এটি সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দিঘায় পৌঁছায়। অন্যদিকে, ০৮১১৮ ডাউন স্পেশাল ট্রেনটি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দিঘা থেকে ছেড়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে পাঁশকুড়া পৌঁছায়। এই ট্রেনটি রুটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে। তমলুক, নন্দকুমার, নাচিন্দা, কাঁথি এবং রামনগর স্টেশনে ট্রেনটি দাঁড়াবে। এর ফলে শুধু দিঘা নয়, মন্দারমণি বা তাজপুরগামী পর্যটকরাও প্রভূত উপকৃত হবেন।
বাড়তি পাওনা ওল্ড দিঘার দোল উৎসব
গত বছরের মতো এবারও দিঘার সৈকতে দোল উৎসবের আয়োজন করছে পূর্ব মেদিনীপুর প্রেস ক্লাব। ওল্ড দিঘায় আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য উৎসবে সাধারণ পর্যটকরাও সহজেই শামিল হতে পারেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আবির খেলার আনন্দ পর্যটকদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সমুদ্রের নীল জলরাশির ধারে বসন্তের উৎসবে মাতোয়ারা হওয়ার সুযোগ এখন হাতের কাছে।
আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প, কীভাবে আবেদন করবেন দেখুন
পাঁশকুড়া-হলদিয়া-দিঘা সাউথ ইস্টার্ন প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার রেল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, দিঘায় সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় থাকে। বিশেষ করে পরীক্ষার মরশুম শেষ হলে এই ভিড় বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই সময় এই স্পেশাল ট্রেনটি না থাকলে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি চরমে পৌঁছাত। রেল কর্তৃপক্ষের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এবারের বসন্ত উৎসবে দিঘা ভ্রমণের পথ এখন অনেক বেশি প্রশস্ত (Holi Special Train)। রেলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এবং বিশেষ ট্রেনের সুবিধা মেলায় পর্যটকদের কাছে দিঘা এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
