ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এসেও শীতের দাপট (Weather Update) কমছে না। বরং বিদায় নেওয়ার আগে শহর কলকাতায় শীতের এক আশ্চর্য সমাপতন দেখা গেল। ঠিক ১৪ দিন আগে অর্থাৎ গত ২৪ জানুয়ারি ছিল শনিবার। সেদিন কলকাতার পারদ নেমেছিল ১৪ ডিগ্রির ঘরে। আজ ৭ ফেব্রুয়ারিও শনিবার। আর আজও মহানগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সেই ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই থমকে দাঁড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, শীতের এই ফিরে আসা আসলে তার বিদায়কালীন এক ঝোড়ো ইনিংস। উত্তুরে হাওয়ার অবাধ প্রবেশের কারণেই তাপমাত্রার এই পতন ঘটছে। আপাতত রাত এবং দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়বে (Weather Update)
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস (Weather Update) অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতায় এই কনকনে ভাব বজায় থাকবে। ভোরের দিকে হালকা শিশিরের দেখা মিলতে পারে। তবে বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। রোদের তেজ থাকলেও শীতের আমেজ পুরোপুরি গায়েব হবে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও শীতের দাপট বেশ ভালোই অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের কিছু অংশে আজ ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই এখন মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজমান। আপাতত আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও বিশেষ কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। উত্তরের জেলাগুলিতে আগামী তিন থেকে চার দিন হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দাপট থাকবে। বিশেষ করে মালদহ এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকতে পারে। আগামী চার-পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় কোনো হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বজায় থাকবে। রবিবার পর্যন্ত সেখানে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। সমতলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মরশুমে শীতের এই খামখেয়ালি আচরণ বিশেষজ্ঞদের অবাক করেছে। জানুয়ারির শেষে যে বসন্তের আগমন হবে বলে মনে করা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারি এসেও তা অনুভূত হচ্ছে না। উত্তুরে হাওয়া জোরালো হওয়ার কারণে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখনও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঠান্ডার আমেজ সাধারণ মানুষের কাছে যেমন উপভোগ্য, তেমনই আচমকা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সর্দি-কাশির সমস্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা বিপদে পড়লে পাশে থাকবে পুলিশ, চালু বিশেষ হেল্পলাইন
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির এই সময়ে শীতের দাপট (Weather Update) সাধারণত কমে আসে। কিন্তু এবার উত্তরে হাওয়ার দাপট সব হিসেব উল্টে দিচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে বসন্তের উষ্ণতা টের পাওয়া যাবে। দক্ষিণা হাওয়ার দাপট বাড়লে উত্তুরে হাওয়া বিদায় নেবে। ফলে দিনের বেলা রোদের তেজ বাড়বে এবং রাতে শীত ক্রমশ দুর্বল হবে। আপাতত আরও অন্তত দু-তিন দিন শীতের এই কামড় উপভোগ করতে পারবে তিলোত্তমার মানুষ। সব মিলিয়ে বিদায় বেলায় শীতের এই ব্যাটিং যে বেশ স্মরণীয় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
