আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক (Madhyamik 2026)। পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। একদিকে যেমন কলকাতা পুলিশ পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ‘হেল্পলাইন’ নম্বর চালু করেছে, অন্যদিকে রাস্তায় যাতায়াতের সমস্যা মেটাতে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর নামাচ্ছে অতিরিক্ত বাস। সব মিলিয়ে পরীক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে এবং অভিভাবকদের উদ্বেগ কমাতে কোমর বেঁধেছে তিলোত্তমার প্রশাসন।
বিপদে পড়লে ফোন করলেই মিলবে পুলিশি সহায়তা
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে কোনো পরীক্ষার্থী (Madhyamik 2026) যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে সরাসরি পুলিশের সাহায্য নিতে পারবে। এর জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ৯৪৩২৬২০০৩৯ চালু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী যদি ভুলবশত বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড ফেলে আসে, কিংবা যানজটে আটকে পড়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার উপক্রম হয়, তবে এই নম্বরে ফোন করলেই তৎক্ষণাৎ পুলিশকর্মীরা সেখানে পৌঁছে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার দিনগুলিতে শহরের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে যাতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ তৎপরতা।
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ বাস পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অন্তত ২০টি অতিরিক্ত বাস চালানো হবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ৮ দিন। এর ফলে কর্মব্যস্ত দিনগুলিতে সাধারণ বাসে ভিড় বা ট্রাফিক জ্যামের কারণে সময় নষ্ট হওয়ার ভয় অনেকটাই কাটবে। ঘড়ি ধরে বাড়ি থেকে বেরোলে পরীক্ষার্থীরা মসৃণভাবেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
আরও পড়ুন: মাঘে উধাও শীত! দার্জিলিং পেতে পারে তুষারপাত
একনজরে পরীক্ষার সময়সূচি (Madhyamik 2026)
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik 2026) চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষার দিনগুলি হল – ২, ৩, ৬, ৭, ৯, ১০ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং শেষ হবে দুপুর ২টোয়। সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে এমনিতেই রাস্তায় প্রবল ভিড় থাকে, তাই এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলি পরীক্ষার্থীদের টেনশন অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। পুলিশের এই মানবিক মুখ এবং পরিবহণ দপ্তরের সক্রিয়তা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রথম বড় লড়াইয়ে বাড়তি সাহস জোগাবে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
