HS Result 2026: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসা মাত্রই বাংলার শিক্ষামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন। পরীক্ষার প্রায় ৭৬ দিন পর যখন ফলাফল ঘোষণা হল, দেখা গেল মেধাতালিকায় থাকা মোট ৬৪ জনের মধ্যে ১৯ জনই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা। আরও বিস্ময়কর তথ্য, এই ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনই একই স্কুলের ছাত্র। প্রথম থেকে দশম – প্রায় প্রতিটি স্থানেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের জয়জয়কার। এই অনন্য সাফল্যের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে স্কুলের মহারাজ স্বামী ইস্টেশানন্দজী বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
উচ্চমাধ্যমিকে সেরার সেরা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন (HS Result 2026)
স্কুলের ছাত্রদের এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে (HS Result 2026) কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং কঠোর শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। মহারাজ স্বামী ইস্টেশানন্দজী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “বর্তমান এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দাঁড়িয়েও আমাদের ছাত্ররা মোবাইলের প্রকোপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পেরেছে। এই বয়সের কিশোরদের মধ্যে মোবাইলের প্রতি এক মারাত্মক আসক্তি কাজ করে, যা তাঁদের পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আমরা স্কুলের ভেতরে এমন এক পরিবেশ প্রদান করি যেখানে ছাত্ররা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মনোসংযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।”
মহারাজ আরও যোগ করেন যে, ছাত্রদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের যৌথ লড়াই কাজ করেছে। তিনি বলেন, “ছাত্রদের হাতে আমরা মোবাইল দিই না ঠিকই, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের কম্পিউটার ল্যাবরেটরি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই শৃঙ্খলাই তাঁদের অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে।” পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের এই ধারা নতুন নয়। মহারাজ জানিয়েছেন, “মেধাতালিকায় আমাদের ১৮ জন ছাত্রের জায়গা পাওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর আগেও ২০২০ সালে আমাদের ১৮ জন ছাত্র মেধাতালিকায় ছিল। ২০১৫ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ১৯। এমনকি ২০২৩ সালেও আমাদের স্কুলের ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ছিল। তবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে ফের আমাদের স্কুলের ছাত্র মেধা তালিকার প্রথম স্থানটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হল।”
আরও পড়ুন: আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা, মুহূর্তে ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ
এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের কৃতিদের তালিকাটি সত্যিই নজরকাড়া। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আদৃত পাল। মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানে ৪৯৫ পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ঋতব্রত নাথ ও ঐতিহ্য পাছাল। ৪৯৪ নম্বর নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছেন সৌম্য রায় এবং চতুর্থ স্থানে ৪৯৩ নম্বর পেয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অর্কদ্যুতি ধর। পঞ্চম স্থানে ৪৯২ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে রয়েছেন প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায় ও আলেখ্য মাইতি। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন প্রত্যুষ মণ্ডল, শুভদীপ দিন্দা, পল্লব কুমার ভাওয়াল এবং অনিমেষ মুখোপাধ্যায়, যাদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১।
সপ্তম স্থান বাদে তালিকার বাকি অংশগুলিতেও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের আধিপত্য স্পষ্ট। অষ্টম স্থানে ৪৮৯ নম্বর নিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অরিত্র সরকার ও ফারহান আলি। নবম স্থানে ৪৮৮ নম্বর পেয়ে রয়েছেন সোহম বেজ। দশম স্থানে ৪৮৭ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে রয়েছেন সাগ্নিক ঘটক, মেঘন অধিকারী, সোহম ভৌমিক এবং সৃজন পাল। প্রযুক্তির এই ডামাডোলের যুগে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের এই সাফল্য এটাই প্রমাণ করে যে, একাগ্রতা এবং শৃঙ্খলা আজও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। মহারাজ স্বামী ইস্টেশানন্দজীর মতে, এই জয় (HS Result 2026) আসলে ছাত্র ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফসল।
