Nipah Virus Update

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ (Nipah Virus Update) ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বারাসাতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই নার্সের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে। কাটোয়ার বাসিন্দা আক্রান্ত এক নার্স বর্তমানে কোমায়। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের অপর এক নার্সের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায় তাঁকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই দুই স্বাস্থ্যকর্মী অসুস্থতা বা জ্বরের উপসর্গ নিয়েই গত কয়েকদিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

জ্বর নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন দুই নার্স (Nipah Virus Update)

জ্বর নিয়েই দুইজন নার্সিং সংক্রান্ত পেশাদার পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, কাটোয়ার ওই নার্স গুসকরায় একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। অপরজন নিউটাউনের একটি সেন্টারে পরীক্ষায় বসেন। এই ঘটনাটি সংক্রমণের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত এই দুই নার্স উত্তর ২৪ পরগনার হৃদয়পুরে একটি পেয়িং গেস্ট হাউসে একসঙ্গেই থাকতেন। তাঁদের সাথে আরও তিনজন রুমমেট ছিলেন। তাঁরাও পেশায় নার্স। যদিও ওই তিনজনের শরীরে এখনও কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ (Nipah Virus Update) দেখা দেয়নি। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে তাঁদের ডিউটিতে আসতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত নার্সদের পরিবারের সদস্যদেরও আপাতত গৃহবন্দি বা আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় একসঙ্গে ডিউটি করার সময়ই একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে এই মারণ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় আজই নবান্নে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে রাজ্য সরকার।

‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ রাজ্যে পৌঁছেছে

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। ‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ নামক এই প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই বিশেষ দলে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV), কলকাতার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড পাবলিক হাইজিন এবং কল্যাণী ও ভুবনেশ্বর এইমস-এর (AIIMS) অভিজ্ঞ গবেষকরা রয়েছেন। তাঁরা রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভাইরাসের উৎস এবং সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করছেন। কীভাবে এই মারণ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায়, তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: বারাসাতে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক! ভেন্টিলেশনে দুই নার্স, রাজ্যে জারি হাই অ্যালার্ট

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার রাজ্যের এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বাংলার মানুষের জীবন বাঁচাতে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা নেওয়া। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের নিয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে দ্রুত ফিল্ডে নেমে কাজ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সেখানে নিপা আক্রান্তদের জন্য একটি আলাদা ব্লকে ১০টি আইসোলেশন কেবিন এবং ২০টি সিসিইউ বেড-সহ মোট ৬৩টি বেডের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিপা ভাইরাস (Nipah Virus Update) নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও চিকিৎসকদের একাংশ সাধারণ মানুষকে অহেতুক ধৈর্য না হারানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। সংক্রমণের শিকড় চিহ্নিত করতে কন্টাক্ট ট্রেসিং জোরদার করা হয়েছে। পুনে থেকে আসা চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved