দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্ম পুরস্কার’ ২০২৬-এর (Padma Awards 2026) তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্যলগ্নে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পকলা, সমাজসেবা, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিক্ষা এবং ক্রীড়ার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রপতি মোট ১৩১ জন ব্যক্তিত্বকে এই সম্মানে ভূষিত করার অনুমোদন দিয়েছেন। যার মধ্যে ৫ জন পদ্মবিভূষণ, ১৩ জন পদ্মভূষণ এবং ১১৩ জন পদ্মশ্রী প্রাপক রয়েছেন। এই গৌরবময় তালিকার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কৃতি সন্তানদের নাম।
বাংলার কৃতীরা (Padma Awards 2026)
পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবারের তালিকায় (Padma Awards 2026) নাম থাকা গুণীজনদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শিল্পকলা বা অভিনয় জগতে তাঁর দীর্ঘ দশকের নিরলস অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। এছাড়া শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের আঙিনায় বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন বিশিষ্ট তবলা বাদক কুমার বোস এবং প্রখ্যাত সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্য, যাঁদের দুজনকেই পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। সংগীত জগতের অপর এক কৃতি ব্যক্তিত্ব তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় এই সম্মান লাভ করেছেন। শিল্পকলা বিভাগেই মরণোত্তর সম্মান প্রদান করা হচ্ছে হরিমাধব মুখোপাধ্যায়-কে। এছাড়া বাংলার তাঁত বা কুটির শিল্পের প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন জ্যোতিষ দেবনাথ।
সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের জয়জয়কার লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিভাগে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অশোক কুমার হালদার, গম্ভীর সিং ইয়োনজোন, মহেন্দ্রনাথ রায় এবং রবিলাল টুডু। চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের সেবায় নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য বাংলার ডাক্তার সরোজ মন্ডল-কে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কৃতি ব্যক্তিত্বরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন।
আরও পড়ুন: শীতের কী তবে বিদায়বেলা? সরস্বতী পুজোর আগে কী জানাল হাওয়া অফিস?
আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাস নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতি এই গুণীজনদের হাতে সম্মান (Padma Awards 2026) তুলে দেবেন। এবারের তালিকায় ১৯ জন মহিলা এবং ১৬ জন মরণোত্তর প্রাপক রয়েছেন, যা এই পুরস্কারের বৈচিত্র্যকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। বাংলার এই কৃতি সন্তানদের সাফল্য আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
