২০২৫ সালের শেষ কটা দিন যেন বাংলায় শীত জোরাল কামড় বসিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে অনুভূত হচ্ছে কনকনে উত্তুরে হাওয়ার (Weather Forecast) জোরালো দাপট। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও রোদের ‘ক্ষীণ’ তেজ যেন শীতের কামড়কে বিন্দুমাত্র কমাতে পারছে না। তবে বেশিরভাগ জেলাতেই আজ এখনও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ – সর্বত্রই তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নিচে। কোথাও পারদ পতন হয়েছে রেকর্ড হারে। আবার কোথাও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
কলকাতায় সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম। রবিবারের তুলনায় সোমবারে তাপমাত্রার পারদ আরও কিছুটা নিচে নেমেছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) শহরবাসী এই মরশুমের শীতলতম দিনের সাক্ষী ছিল। সেদিন তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ১২.৮ ডিগ্রি।
শুধু রাতের ঠান্ডাই নয়, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। এর ফলে সারাদিনই শহরবাসীকে সোয়েটার-মাফলারের সহায়তা নিতে হচ্ছে। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী আরও কিছুদিনেও বদলাবে না বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে শীতের ম্যারাথনে সবাইকে টেক্কা দিচ্ছে বাঁকুড়া। সোমবার সেখানে পারদ নেমেছে ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সর্বনিম্ন। আসানসোল এবং বর্ধমানেও শীতের দাপট চোখে পড়ার মতো, যেখানে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯.৫ ও ৯.৪ ডিগ্রি। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জেলাগুলির তাপমাত্রা হল:
শীতের এই জোরালো ব্যাটিং আগামী কয়েক দিন একই মেজাজে বজায় থাকবে বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন: রুপোর দামে রেকর্ড! একলাফে ১০ হাজার টাকা মহার্ঘ্য রূপালি ধাতু, কলকাতায় কত?
উত্তরবঙ্গ এখন রীতিমতো হাড়হিম করা ঠান্ডার কবলে। গোটা রাজ্যের মধ্যে সোমবার শীতলতম স্থান ছিল দার্জিলিং। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আলিপুরদুয়ারেও পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে। তবে ঠান্ডার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘন কুয়াশা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। দার্জিলিং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে সোমবার ও মঙ্গলবার অতি ঘন কুয়াশা থাকবে।
কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটারে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কোচবিহারে বিকেলের পর থেকেই দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
শীতপ্রেমীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর, এই জবুথবু করা ঠান্ডা আরও অন্তত তিন দিন বজায় থাকবে। তবে বছরের একদম শেষে এসে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী তিন দিন রাতের তাপমাত্রার বিশেষ কোনো হেরফের হবে না। তবে তার পরবর্তী তিন দিনে পারদ ধীরে ধীরে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
আবার আগামী এক সপ্তাহ উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রায় (Weather Forecast) তেমন বড় কোনো রদবদলের সম্ভাবনা নেই। সেখানে কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার দাপট একইভাবে বজায় থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই এখন শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার কারণে সড়কপথে যাতায়াতের সময় চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…