বাঙালির প্রিয় শীতকাল (Weather Update) এবার ধীরে ধীরে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বিদায়ের পথে। সরস্বতী পুজোর সময়ে কিছুটা কনকনে ভাব অনুভূত হলেও, নতুন করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় সেই আমেজ এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ভোরের দিকে সামান্য শিরশিরানি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজে শীত কার্যত উধাও হয়ে যাচ্ছে। সোমবার তিলোত্তমার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও পারদ এখন ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে সেখানেও রোদেলা দুপুরে শীতের দেখা নেই।
বিদায় পর্বে শীত (Weather Update)
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অকাল উষ্ণতার মূলে রয়েছে একের পর এক ধেয়ে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ৩০ জানুয়ারি আরও একটি নতুন ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণেই হিমালয়ের হিমেল হাওয়া বঙ্গে প্রবেশ করতে বাধা পাচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ পঞ্জাবের ওপর সৃষ্ট একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার প্রভাবে বাংলার বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে, যা পরোক্ষভাবে শীতকে হটিয়ে দিচ্ছে।
কুয়াশার দাপট (Weather Update) নিয়ে হাওয়া অফিস জানিয়েছে যে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আপাতত বড় কোনো দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। তবে সকালের দিকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং দুই বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে মাঝারি কুয়াশার দাপট দেখা যেতে পারে। নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কিছুটা কম থাকতে পারে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় হালকা ধোঁয়াশা বা কুয়াশার দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী কুয়াশার কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
আরও পড়ুন: প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সহ একঝাঁক বাঙালি পাচ্ছেন পদ্মশ্রী, রইল তালিকা
বিপরীত চিত্র ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। সেখানে উত্তুরে হাওয়ার দাপট কিছুটা বজায় থাকলেও ঘন কুয়াশার সর্তকতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী কয়েকদিন হিমালয় সংলগ্ন জেলাগুলোতে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকতে পারে। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার খুব একটা বড় রদবদল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় হাড়কাঁপানো শীত বজায় আছে এবং সেখানে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সমতলের অন্যান্য জেলাগুলোতে পারদ ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রির ঘরে স্থিতিশীল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, শীতের ঝোড়ো ইনিংস এবার শেষ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
