West Bengal Election 2026ছবি: সংগৃহীত

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে (West Bengal Election 2026)। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যের সুরাপ্রেমীদের নাজেহাল অবস্থা! কেন শুনবেন? কারণ গোটা রাজ্যেই গত সোমবার থেকে সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রয়েছে। রাজ্যের আবগারি দপ্তরের নির্দেশই এমনটা হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট এলাকায় ‘ড্রাই ডে’ পালনের রীতি থাকলেও, এবার সেই সময়সীমা অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন সময় সবচেয়ে বড় চমক দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনও গণ-নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেওয়াই হয়নি বলে তিনি জানান।

ভোটের অনের আগেই বন্ধ মদের দোকান (West Bengal Election 2026)

মনোজ আগরওয়ালের এই মন্তব্য প্রশাসনিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কমিশনের নাম করে কেন আগাম মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আবগারি কমিশনারের কাছে কৈফিয়ত তলব করবেন। অর্থাৎ, কমিশনের সবুজ সংকেত ছাড়াই আবগারি দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই কড়াকড়ি শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগাম কোনও ঘোষণা ছাড়াই সোমবার থেকে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা থেকে ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে চলবে তাপপ্রবাহ! উত্তরবঙ্গের জন্য রয়েছে সুখবর

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026) অনুষ্ঠিত হবে ১৫২টি কেন্দ্রে। স্বাভাবিকভাবেই ওইসব এলাকায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু আবগারি দপ্তরের বিতর্কিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২০ এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার থেকেই গোটা রাজ্যে দোকান বন্ধ রাখতে হবে। অবাক করার মতো বিষয় হল, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে ভোট ২৯ এপ্রিল হওয়া সত্ত্বেও সেখানেও সোমবার থেকেই ঝাঁপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবগারি দপ্তরের পাঠানো ওই বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন টানা মদের দোকান বন্ধ থাকবে। এরপর ফের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৯৯৮ সালের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার যে সময়সীমা প্রচলিত ছিল, আবগারি দপ্তর এবার তা দ্বিগুণ করে দিয়েছে। তবে যে জেলাগুলিতে ভোট দ্বিতীয় দফায়, সেখানে কেন এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হল, তার কোনও সদুত্তর সরকারি স্তর থেকে মেলেনি। গত মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধি দল যখন রাজ্যে এসেছিল, তখন সময়সীমা বৃদ্ধির একটা ইঙ্গিত মিলেছিল ঠিকই, কিন্তু দ্বিতীয় দফার (West Bengal Election 2026) জেলার ক্ষেত্রে এই বাড়তি কড়াকড়ি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। সিইও-র মন্তব্যের পর বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে, যেখানে আবগারি দপ্তরের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved