ডিসেম্বরের শেষ লগ্নে এসে শীতের বিধ্বংসী মেজাজ দেখে রীতিমতো অবাক পশ্চিমবঙ্গবাসী (West Bengal Weather Update)। বড়দিনের আমেজ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমা-কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের পারদ তীব্র গতিতে নামছে। পরিস্থিতি বিচার করে বর্ষবরণের রাতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে শীতের যে দাপট চলছে, তা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় এবং উত্তর ভারতের শীতল হাওয়ার অবাধ প্রবেশে গোটা রাজ্যবাসী ঠান্ডায় জবুথবু।
কলকাতায় মরসুমের শীতলতম দিন
গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতার পারদ ক্রমাগত নেমেছে। তবে গতকাল (শনিবার) শহরবাসী সাক্ষী থাকল এই মরশুমের শীতলতম সকালের। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সাতসকালেই কনকনে ঠান্ডা আর হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা তিলোত্তমার রাজপথ জানান দিচ্ছিল যে শীত এখন নিজের ফর্মে ফিরেছে। শুধু কলকাতা নয়, সল্টলেক এবং দমদম অঞ্চলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২-৩ ডিগ্রি কম রয়েছে। শীতপ্রেমীরা আশাবাদী যে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হয়তো এই রেকর্ড আরও একবার ভেঙে যেতে পারে।
জেলাগুলির পরিস্থিতি ও কুয়াশার সতর্কতা | West Bengal Weather Update
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শীতের কামড় এখন অনেক বেশি জোরালো। বিশেষ করে বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি কার্যত শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। উপকূলবর্তী জেলা যেমন দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে পারদ কিছুটা বেশি থাকলেও সেখানে জোরালো উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবে জমাটি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
পারদ পতনের সঙ্গেই আগামী কয়েক দিন কুয়াশা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ভোরবেলায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে জাতীয় সড়কগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেলা বাড়লে কুয়াশা কেটে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হবে বলেই পূর্বাভাস।
আরও পড়ুন: BSNL-এর বর্ষবরণ অফার! মাত্র ২৫১ টাকায় ১০০ জিবি ডেটা ও ৩০ দিনের বৈধতা
উত্তরবঙ্গের চিত্র
দক্ষিণবঙ্গের অনের আগে থেকেই উত্তরবঙ্গে শীত চোখ রাঙাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি এলাকায় পারদ নেমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। পাহাড়ি জেলাগুলিতে ঘন কুয়াশার দাপট সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো দিন ভোরবেলায় বিশেষ করে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকাগুলোতেও কনকনে ঠান্ডার জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। তবে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। বরফের চাদর দেখায় বাসনাই শত শত পর্যটককে টেনে আনছে উত্তরবঙ্গে।
এখন প্রশ্ন একটাই। শীতের এই দাপুটে ইনিংস কি দীর্ঘস্থায়ী হবে? আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কিন্তু কিছুটা ভিন্ন সুর গাইছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই কনকনে ঠান্ডা আগামী সোমবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর অর্থাৎ ১ জানুয়ারি বা তার ঠিক আগে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব দেখা দিতে পারে দক্ষিণবঙ্গে।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে হাওয়া বাধা পাবে এবং জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আবার ১৫ ডিগ্রির ঘরে উঠে আসতে পারে। অর্থাৎ, বছরের শেষ কটা দিন জাঁকিয়ে শীত থাকলেও বর্ষবরণ উৎসবে (West Bengal Weather Update) খুব বেশি হাড়কাঁপানো ঠান্ডার হয়তো দেখা মিলবে না। তবে ৩১ ডিসেম্বরের রাত পর্যন্ত যে রেকর্ড ভাঙার মতো ঠান্ডা থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
