Yuva Sathi West Bengal

Yuva Sathi West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সুরাহা দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। সম্প্রতি ‘বাংলার যুব সাথী’ নামক এক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। চাকরির সন্ধান বা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের সময় এই টাকা তাঁদের যে বিশেষ সহায়তা করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও সুবিধা | Yuva Sathi West Bengal

‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের (Yuva Sathi West Bengal) লক্ষ্য রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের পাশে দাঁড়ানো। প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এই সহায়তা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। এই সময়ের মধ্যে যুবক-যুবতীরা চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারবেন অথবা কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

আবেদন করার যোগ্যতা

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তত মাধ্যমিক পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মনে রাখতে হবে, যারা আগে থেকেই সরকারের অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁরা এই আবেদন করতে পারবেন না। তবে স্কলারশিপ বা বৃত্তি এর আওতার বাইরে। অর্থাৎ ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, শিক্ষাশ্রী বা স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ পাওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ভিত্তিক বিশেষ শিবির বা ক্যাম্প করা হবে। এছাড়া ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকেও ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ থাকছে। আগ্রহী প্রার্থীরা যুবসাথী পোর্টালে গিয়ে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। ওটিপি ভেরিফিকেশনের পর ব্যক্তিগত ও ব্যাঙ্ক ডিটেইলস দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে।

কী কী নথিপত্র প্রয়োজন?

আবেদনের সময় কিছু প্রয়োজনীয় নথির ফোটোকপি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার প্রতিলিপি এবং পাসপোর্ট সাইজ ফটো। এছাড়া একটি সেলফ-ডিক্লারেশন বা স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে যেখানে আবেদনকারী তাঁর বেকারত্বের কথা উল্লেখ করবেন। অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যাবে। এটি ভবিষ্যতে আবেদনের স্থিতি বা স্ট্যাটাস চেক করার জন্য প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন: শেষলগ্নে শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং! আজ কলকাতায় ১৪ ডিগ্রি, তাপমাত্রা বাড়ছে এদিন থেকে

ফর্ম ডাউনলোড করবেন কীভাবে?

রাজ্য ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে। এখানে মূলত তিনটি ফর্ম থাকবে – ফর্ম-এ (মূল আবেদনপত্র), অ্যানেক্সার-১ (স্ব-ঘোষণাপত্র) এবং ব্যাঙ্ক ম্যান্ডেট ফর্ম। বর্তমানে অনেক ব্লক বা মিউনিসিপ্যাল অফিসেও এই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক নথিপত্র সহ আবেদন করলে ১ এপ্রিল থেকেই টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ বেকার যুবক-যুবতীদের জীবনে নতুন আশা নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা গ্রামগঞ্জ বা শহরতলিতে থেকে চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের যাতায়াত বা পড়াশোনার খরচ জোগাতে এই ১,৫০০ টাকা বিশেষ সহায়ক হবে।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved