2026 Voter List: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর ভোটার তালিকা নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের অধীনে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশনের একজন পদস্থ আধিকারিক এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এই দ্বিতীয় তালিকায় মোট কতজন নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বা কতজনের নাম বাদ পড়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। কমিশন দ্বিতীয় তালিকাটি ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে এনেছে। এর বাইরে বর্তমানে আর কিছু জানানো সম্ভব নয়।
প্রযুক্তিগত বিভ্রাট এবং গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক (2026 Voter List)
শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বুথভিত্তিক ভোটার তালিকাগুলি (2026 Voter List) আপলোড করা হয়। তবে সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলগুলি সেই তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা যুক্ত হওয়ার সঠিক তথ্য সহজে পাচ্ছিলেন না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডেটা সংবলিত ওয়েব পেজগুলি অ্যাক্সেস করতে সমস্যা হচ্ছিল। এর আগে গত সোমবার কমিশন ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই সময়েও কতজনের নাম কাটা হয়েছে বা কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে তা নিয়ে কমিশন মুখে কুলুপ এঁটেছিল। এই গোপনীয়তার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুব সাথী প্রকল্পের টাকা পাননি? স্টেটাস চেক করার পদ্ধতি দেখে নিন
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার গণনার পর রাজ্যে ভোটার সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী মৃত, পরিযায়ী, ডুপ্লিকেট এবং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন কারণে মোট ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা (2026 Voter List) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের প্রাথমিক ৭.৬৬ কোটি ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭.০৮ কোটিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর পরবর্তী যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল তাতে বৈধ ভোটারের সংখ্যা আরও কমে প্রায় ৭.০৪ কোটি হয়েছে। এর মধ্যে এখনও ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম বিচারবিভাগীয় স্ক্রুটিনি বা আইনি পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট এবং প্রস্তুতি
২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই স্থির হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ফলাফল বা গণনার কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৪ মে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির উদ্বেগ তত বাড়ছে। বিশেষ করে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া এবং তালিকার পরিবর্তন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে কমিশন সচেষ্ট রয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলে স্বচ্ছ তালিকা জনসমক্ষে আনা এখন সময়ের দাবি। পশ্চিমবঙ্গের এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটই অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত হচ্ছে।
