Bangla Pokkho: কলকাতার ধর্মতলায় পিয়ারলেস হোটেলের সামনে রবিবার এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’। পশ্চিমবাংলার লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে হিন্দু ও মুসলমান নির্বিশেষে কয়েক লক্ষ বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রাখা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় বাঙালির প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে বলে নেতৃত্ব দাবি করেছেন। নাম বাতিলের আতঙ্কে এযাবৎ ১৬০ জন বাঙালির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন।
বাঙালি বিদ্বেষী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের (Bangla Pokkho) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ভোটার তালিকা সংশোধনের সমালোচনা করেন। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাঙালির রক্তে স্বাধীন ভারতে আজ বাঙালিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। শত শত বছর এই বাংলা যাদের বাসভূমি তাদের আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এর শেষ দেখে ছাড়বে। বাঙালি হারতে শেখেনি। একটাই করবে – বাঙালিকে যতবার মারবে, বাঙালি ততবার জিতবে।”
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে আধাসেনার বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া এফআইআর করা যাবে না বলে যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়ংকর। কৌশিক মাইতি বললেন, “আধাসেনার বিরুদ্ধে এনকোয়ারি না করে এফআইআর করা যাবে না বলা হচ্ছে, তারমানে কি সামরিক আইন চালু করা হচ্ছে? আমরা বিগত নির্বাচনে শীতলকুচি দেখেছি, এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বহিরাগত আধাসেনার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি সহ আরও অভিযোগ ছিল। এখন ক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও অনেক শীতলকুচি হতেই পারে, আমরা আতঙ্কিত।”
ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ডাক
ধর্মতলার এই অবস্থান বিক্ষোভে শুধুমাত্র দলীয় নেতৃত্ব নন বরং দূরদূরান্তের জেলা থেকে সাধারণ বাঙালিরাও যোগ দিয়েছিলেন। শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাঙালির বিরুদ্ধে সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে বাঙালি তার শত্রুদের পরাস্ত করবে।” পুনরায় নাম তোলার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হলেও সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি না থাকায় বিভ্রান্তি বেড়েছে। সন্ধ্যা যত গড়িয়েছে, সাধারণ বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বিক্ষোভ ততটাই উত্তাল রূপ নিয়েছে। বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) স্পষ্ট জানিয়েছে যে বাঙালির ভোটাধিকার এবং আত্মসম্মান রক্ষার এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হবে।
