Rahul Banerjee Death: টলিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে চলা নানান অস্থিরতার অবসান ঘটল মঙ্গলবার। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল আর্টিস্ট ফোরাম। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ দফার আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় – সহ টলিপাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। বৈঠকে ফেডারেশন, ইম্পা এবং টেলিভিশন প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষও সামিল হয়েছিল।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত কী (Rahul Banerjee Death)
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রঞ্জিত মল্লিক জানান, “বর্তমানে সাধারণ মানুষের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে এবং ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হচ্ছে।” তবে অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার কোনও কাজ আপাতত শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা করবেন না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও সুর মিলিয়ে বলেন যে, “অভিনেতা ও কলাকুশলীদের জীবনের নিরাপত্তা (Rahul Banerjee Death) সবার আগে। কোনও আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে যাতে আর কাউকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, তার জন্য প্রশাসন ও ফেডারেশনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।”
আরও পড়ুন: মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৯৬তম জন্মদিনে তাঁর জীবনী ফিরে দেখা
এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো তারকারা। অন্যদিকে ইম্পার পক্ষে ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল শুটিং সেটে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সেই সময় ওড়িশা পুলিশের কাছ থেকে শুটিংয়ের কোনও বৈধ অনুমতি নেয়নি প্রযোজনা সংস্থাটি।
রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। কিন্তু সেই চিঠির সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ ফোরামের প্রতিনিধিরা কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া প্রিয়াঙ্কা সরকার নিজে প্রযোজক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের বিরুদ্ধে তালসারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নিরাপত্তার পরিকাঠামো বদলে ফেলার ডাক দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম।
মঙ্গলবার বৈঠকের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত ছিল একটি আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি) তৈরি করা। আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এই নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা হবে। রঞ্জিত মল্লিক বলেন যে, শ্যুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করতেই এই বিশেষ গাইডলাইন আনা হচ্ছে। এছাড়া শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হবে (Rahul Banerjee Death)। এমনকি যারা স্থায়ীভাবে চুক্তিবদ্ধ নন, সেই সব জুনিয়র আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ানদের জন্যও বিমার বিশেষ সুবিধা থাকবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, যতদিন পর্যন্ত এই বিমা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হচ্ছে, ততদিন কোনও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আউটডোর শুটিং করা যাবে না।
আরও পড়ুন: ১৮ দিনেই ১০০০ কোটির গণ্ডিতে ‘ধুরন্ধর ২’, ভাঙবে বাহুবলীর রেকর্ড!
শনিবার রাতে তড়িঘড়ি নেওয়া কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের পর সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ধারাবাহিকের এপিসোড ব্যাঙ্কিংয়ের কাজ চলেছিল। মঙ্গলবার সকালে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আশ্বাস দেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এখন থেকে প্রতিটি কর্মীর প্রাণের মূল্য দেবে। কর্মবিরতি শেষ হলেও রাহুলের পরিবারের পাশে থাকার এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন উপস্থিত সকল শিল্পীরা। টলিপাড়ার এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত আগামী দিনে শুটিং সেটের চিত্র বদলে দেবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

