ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated in Mumbai)। সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের মায়াবী কণ্ঠ দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। শিল্পীকে বিদায় জানাতে এদিন মুম্বইয়ের রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। প্রিয় ‘আশা তাই’-এর শেষ যাত্রায় সামিল হয়ে অগণিত অনুরাগী অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানান।
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য (Asha Bhosle Cremated in Mumbai)
এদিন সকালে আশা ভোঁসলের নশ্বর দেহ মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে তাঁর লোয়ার পারেলের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাঁর দেহ একটি কাঁচের কফিনে রাখা হয়েছিল এবং ভারতের জাতীয় পতাকায় তাঁকে সশ্রদ্ধভাবে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাসভবনে গুণমুগ্ধদের তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখান থেকে শুরু হয় তাঁর শেষ যাত্রা। সাদা ও হলুদ ফুলে সাজানো দেহ যখন দাদারের শিবাজি পার্কের দিকে এগোচ্ছিল, তখন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাত জোড় করে তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। গাড়ির সামনে থাকা আশা ভোঁসলের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি এবং তাঁর চিরাচরিত মারাঠি ‘নাথে’র সাজ ভক্তদের বারবার আবেগী করে তুলেছে।
বিকেল ৪টে নাগাদ শিবাজি পার্ক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য (Asha Bhosle Cremated in Mumbai) সম্পন্ন হয়। মহারাষ্ট্র পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গান স্যালুট ও বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এই অন্তিম লগ্নে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে, বোন ঊষা মঙ্গেশকর এবং ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। শ্মশানে উপস্থিত গায়ক অনুপ জালোটা এবং শান তাঁদের প্রিয় দিদির স্মরণে অত্যন্ত করুণ সুরে গান পরিবেশন করে এক শোকাতুর পরিবেশ তৈরি করেন।
আরও পড়ুন: আশা ভোঁসলেকে নিয়ে আবেগী পোস্ট শচীনের! গায়িকার শেষবার প্রকাশ্যে আসার ভিডিও দেখুন
আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজনীতি, বিনোদন এবং ক্রীড়া জগতের নক্ষত্ররা এদিন শিবাজি পার্কে উপস্থিত হয়েছিলেন। ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন তেন্ডুলকর সস্ত্রীক অঞ্জলি তেন্ডুলকরকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান ভোরেই পৌঁছেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে। এ ছাড়া আমির খান, রণবীর সিং, জ্যাকি শ্রফ, রিতেশ দেশমুখ, রাকেশ রোশন এবং রেণুকা শাহানের মতো ব্যক্তিত্বরা কিংবদন্তি এই গায়িকাকে শেষ প্রণাম জানান। পুরোনো দিনের তারকাদের মধ্যে হেলেন, পুনম ধিলোঁ এবং মীনাক্ষী শেষাদ্রিকেও দেখা যায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে শিল্পীর শেষ বিদায়ের সাক্ষী হতে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার শারীরিক জটিলতা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৯২ বছর বয়সী এই শিল্পী। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও মাল্টি-অর্গান ফেলিওর বা একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবির মাধ্যমে যে সংগীত সফর তিনি শুরু করেছিলেন, তার ব্যাপ্তি ছিল কয়েক হাজার গানে।
View this post on Instagram
আর ডি বর্মণের সুরে তাঁর গাওয়া ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’ থেকে শুরু করে ‘দম মারো দম’ কিংবা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ – প্রতিটি গানই ভারতীয় সঙ্গীতর এক একটি সম্পদ। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই কালজয়ী শিল্পী আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেও তাঁর কণ্ঠের জাদু অনন্তকাল ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে। আকাশবাণীর সুরস্তম্ভ লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের প্রস্থান (Asha Bhosle Cremated in Mumbai) ভারতীয় সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

