২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের সংসদীয় এলাকা হুগলির দলীয় কর্মীদের ওপর চলা ‘নির্মম’ অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন তৃণমূল সাংসদ তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)। এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ত্যাগ করে শান্তিস্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন। নির্বাচনের জয়-পরাজয় ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষার দাবিতে তাঁর এই মন্তব্য বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভয়ে কাঁটা কর্মীরা: রচনার কাছে আর্তনাদ (Rachna Banerjee)
সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন যে, গতকাল থেকে হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁর দলের কর্মীরা তাঁকে ফোন করে নিজেদের অসহায়তার কথা জানাচ্ছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘর থেকে টেনে বার করে মারধর করা হচ্ছে এবং ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাংসদ ক্ষোভের সাথে জানান যে, দলীয় কর্মীদের অফিসগুলো ভাঙচুর করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা অফিসগুলোর আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কেবল সম্পত্তির ক্ষতি নয়, বরং কর্মীদের আবেগ ও সম্মানে আঘাত হানার শামিল।
সাংসদ বলেন, “তাঁরা আমাকে বারংবার ফোন করছে জানার জন্য – দিদি আমাদের কী করণীয়? আমাদেরকে বাঁচাও।” রচনার মতে, এই কর্মীরা কেবল রাজনৈতিক কর্মী নন, তাঁরা একেকটি পরিবারের স্তম্ভ। তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট শিশু এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্ত্রীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজনীতির লড়াইয়ে কেন সাধারণ পরিবারের সদস্যদের প্রাণের সংশয় নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘নির্বাচনী জয় সন্তান হারানোর ক্ষতিপূরণ নয়’! অভয়ার মাকে কী বার্তা দিলেন মিমি?
প্রতিহিংসার রাজনীতি বনাম গণতন্ত্রের আদর্শ
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে মানুষের রায় শিরোধার্য। জয়ী প্রার্থীদের তিনি শুভেচ্ছা জানালেও বিজয়ী পক্ষের একাংশের এই ‘বিশৃঙ্খলা’ এবং ‘হিংসা’কে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। তাঁর মতে, কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকা বাঞ্ছনীয়। জয়ী হওয়ার পর কেন এই মারামারি বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন – “কেন এই হিংসা? কেন প্রতিহিংসা? কেন এই বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে?”
সাংসদের কথায়, এই ধরণের রাজনীতি কাম্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই ধরণের বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ রাজ্যের অগ্রগতির পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে হিংসার কোনো স্থান নেই; বরং শান্তি এবং গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চাই হওয়া উচিত সমাজের প্রধান লক্ষ্য।
শান্তি ও অগ্রগতির বার্তা
নিজের বক্তব্যের শেষে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) সকলকে একটু ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি এক বিদ্বেষমুক্ত পরিবেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন, যা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন। ভোট মিটে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ গণতন্ত্রের লজ্জা বলেই তিনি মনে করেন।
হুগলির সাংসদের এই কড়া বার্তা এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, সাংসদের এই আবেদনের পর স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতিপক্ষ দলগুলো হিংসা দমনে কতটা সচেষ্ট হয়। জয়ী হওয়ার আনন্দ যেন অন্যের কান্নার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, রচনার এই মানবিক আবেদনই এখন হুগলির সাধারণ মানুষের মনের কথা।
