Agnimitra on Annapurna Bhandarছবি: সংগৃহীত

Agnimitra on Annapurna Bhandar: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার তাদের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার কথা জানালেন নবনিযুক্ত পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই তিনি বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং এই বড় ঘোষণাটি করেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখন থেকে আর লাইনে দাঁড়িয়ে নয়, বরং ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন বাংলার মা-বোনেরা।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কী বললেন মন্ত্রী? | Agnimitra on Annapurna Bhandar

রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra on Annapurna Bhandar) বলেন, “আমি শুনছিলাম যে এতদিন পর্যন্ত দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে এই ধরনের প্রকল্পের কাজ হয়েছে। কিন্তু আমি আমার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবস্থা এখনই করতে হবে। এখন থেকে অনলাইনেই যাতে সমস্ত মানুষ আবেদন করতে পারেন সেই পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি যারা খুব বেশি শিক্ষিত নন বা পড়াশোনা করার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য এই পোর্টালটি এতটাই সহজবোধ্য করা হবে যে কেউ সেখানে গিয়ে অনায়াসেই ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন। বাংলার প্রত্যেকটি মা-বোন যাতে এই সুযোগ পান, আমরা এখনই সেই ব্যবস্থা করছি।”

আরও পড়ুন: মেধাতালিকার ১৮ জনই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের! স্মার্টফোনের যুগেও কঠোর শৃঙ্খলাতেই এল অভাবনীয় সাফল্য

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক চর্চা ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পাল্টায় বিজেপি এই নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যেখানে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা এই নতুন প্রকল্পের আওতায় আসবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “সবাই পাবেন। যারা যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তাঁরা সবাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। এই সমস্ত টাকা সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।”

তবে টাকা দেওয়ার আগে একটি বিশেষ স্ক্রুটিনি বা বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান যে, আগামী ১ জুন থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। কিন্তু তার আগে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে চায় নতুন সরকার। অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “দেওয়ার আগে আমরা একটা অ্যানালিসিস করতে চাই। বিশেষ করে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গেছে, তাঁরা যদি তালিকায় থাকেন তবে তাঁদের পাওয়ার কথা নয়। এছাড়া যিনি মারা গেছেন বা যিনি ভারতের নাগরিক নন, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ যাবে। আমরা খতিয়ে দেখব লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের মধ্যে কতজন এমন অযোগ্য প্রার্থী আছেন, তাঁদের নামগুলো কেবল বাদ দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক ডিভিডেন্ডও পেয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা বারবার এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। পাল্টা বিজেপি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ময়দানে নেমেছিল। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিন থেকেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করে দিলেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra on Annapurna Bhandar)। পোর্টাল চালুর এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাজে গতি আনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রাখবে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved