ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজারে পরিধি বাড়াতে ইয়ামাহা তাদের দ্বিতীয় ইলেকট্রিক স্কুটার ‘ইয়ামাহা অ্যারক্স ই’ (Yamaha Aerox E) দেশের বাজারে লঞ্চ করল। বেঙ্গালুরুতে এই প্রিমিয়াম ই-স্কুটারটির এক্স-শোরুম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৮১,৬০০ টাকা। ভারতীয় বাজারে এর আগে লঞ্চ হওয়া ‘ইসি-০৬’ (EC-06) মডেলটির পর এটিই জাপানি টু-হুইলার প্রস্তুতকারক সংস্থা ইয়ামাহার দ্বিতীয় কোনো বৈদ্যুতিক স্কুটার। নতুন এই অ্যারক্স ই স্কুটারটির বাহ্যিক ডিজাইন এবং লুক মূলত সংস্থার অত্যন্ত জনপ্রিয় পেট্রোল চালিত ম্যাক্সি-স্কুটার অ্যারক্স ১৫৫ (Aerox 155)-এর মতোই রাখা হয়েছে, তবে এর ভেতরের ইঞ্জিনকে বদলে যুক্ত করা হয়েছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন।
Yamaha Aerox E-এর খুঁটিনাটি
নতুন ইয়ামাহা অ্যারক্স ই-এর (Yamaha Aerox E) মূল আকর্ষণ হল এর শক্তিশালী মোটর এবং ব্যাটারি প্রযুক্তি। এই স্কুটারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৯.৪ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোটর, যা স্কুটারটিকে সর্বোচ্চ ৯৫.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ছুটতে সাহায্য করবে। স্কুটারের ১.৫ কিলোওয়াট আওয়ার ধারণক্ষমতার দুটি রিমুভেবল বা সহজে খুলে নেওয়া যায় এমন ব্যাটারির সেটআপ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্কুটারে মোট ৩ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি ব্যাকআপ মিলবে। সংস্থার দাবি, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই ডুয়েল ব্যাটারি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবিক রেঞ্জ সামান্য কম মিলতে পারে।
আরও পড়ুন: নতুন ডিস্ক ব্রেক সহ বাজারে এল ‘সস্তার’ হিরো-বাইক! জানুন দাম ও দুর্দান্ত ফিচার্স
রাইডারদের সুবিধার জন্য এই বৈদ্যুতিক স্কুটারে তিনটি রাইডিং মোড যুক্ত করা হয়েছে। যথা – ইকো, স্ট্যান্ডার্ড এবং পাওয়ার। প্রতিটি মোড অনুযায়ী স্কুটারটির সর্বোচ্চ গতি এবং থ্রটল রেসপন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। এর পাশাপাশি স্কুটারটিতে একটি বিশেষ ‘পাওয়ার বুস্ট’ অপশনও দেওয়া হয়েছে, যা রাইডিংয়ের সময় সাময়িকভাবে স্কুটারের গতি বাড়িয়ে দেবে এবং দ্রুত ওভারটেক করতে সাহায্য করবে।
স্কুটারটির হার্ডওয়্যার এবং ব্রেকিং সিস্টেমও বেশ উন্নত। এর সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে টুইন শক-অ্যাবজর্বার সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার ওপর চমৎকার গ্রিপ এবং ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এর উভয় প্রান্তেই দেওয়া হয়েছে ১৪ ইঞ্চির বড় অ্যালয় হুইল। সুরক্ষার স্বার্থে স্কুটারটির সামনে ও পেছনে উভয় চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে এবং এর সাথে যুক্ত রয়েছে সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস বা অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম। আধুনিক প্রযুক্তির দিক থেকেও স্কুটারটি বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে একটি তথ্যবহুল টিএফটি কনসোল, যা স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি সমর্থন করে। এর ফলে রাইডাররা ডিসপ্লেতেই টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন বা রাস্তার ম্যাপ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং কল ও এসএমএস অ্যালার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন।
ভারতীয় বাজারে এই দামের নিরিখে ইয়ামাহা অ্যারক্স ই তার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য ইলেকট্রিক স্কুটারের তুলনায় অনেকটাই বেশি ব্যয়বহুল। সম্প্রতি ভারতের রাস্তায় ইয়ামাহার এই নতুন অ্যারক্স ই (Yamaha Aerox E) এবং তাদের অপর মডেল ইসি-০৬ – উভয় স্কুটারই টেস্ট রাইড বা চালিয়ে দেখার সুযোগ মিলেছে। চড়া দাম হওয়া সত্ত্বেও ইয়ামাহার ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং প্রিমিয়াম পারফরম্যান্সের কারণে এই ইলেকট্রিক স্কুটারটি প্রিমিয়াম গ্রাহকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
