দেশের টু-হুইলার বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম বিশ্বস্ত নাম হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp)। এবার তাদের জনপ্রিয় এন্ট্রি-লেভেল কমিউটার মোটরসাইকেল ‘প্যাশন প্লাস’ (Hero Passion Plus Disc)-কে আরও সুরক্ষিত এবং আধুনিক করে বাজারে নিয়ে এলো সংস্থা। যুক্ত করা হয়েছে ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক। নতুন এই মডেলটির নাম রাখা হয়েছে হিরো প্যাশন প্লাস ডিস্ক। নতুন ব্রেকিং সিস্টেমের পাশাপাশি এই বাইকে যুক্ত হয়েছে একগুচ্ছ আধুনিক ফিচার্স, যা নিত্যদিনের যাতায়াতকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করে তুলবে।
Hero Passion Plus Disc: নতুন ভ্যারিয়েন্টের দাম ও বুকিং
দিল্লি এক্স-শোরুম অনুযায়ী, নতুন হিরো প্যাশন প্লাস ডিস্ক ভ্যারিয়েন্টটির (Hero Passion Plus Disc) মূল্য রাখা হয়েছে ৮৪,১২৮ টাকা। ড্রাম ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এই নতুন ডিস্ক মডেলটির দাম প্রায় ৩,৮০০ টাকা বেশি। তবে অতিরিক্ত এই মূল্যের বিনিময়ে গ্রাহকরা যে সমস্ত প্রিমিয়াম সেফটি ও টেকনোলজি ফিচার্স পাচ্ছেন, তা এককথায় পয়সা উসুল। দেশের সমস্ত হিরো ডিলারশিপে ইতিমধ্যেই এর বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ডেলিভারি প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে।
উন্নত ব্রেকিং ও নিরাপত্তা
এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের (Hero Passion Plus Disc) প্রধান ইউএসপি হল এর সামনের চাকার ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক, যা আগের স্ট্যান্ডার্ড ড্রাম ব্রেকের জায়গা নিয়েছে। এর ফলে বাইকটির ব্রেকিং পারফরম্যান্স আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় কিংবা হঠাৎ ব্রেক কষার প্রয়োজন হলে এই ডিস্ক ব্রেক চালককে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। হিরো মোটোকর্প তাদের অন্যান্য এন্ট্রি-লেভেল মডেলেও সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরণের ডিস্ক ব্রেক যুক্ত করার ট্রেন্ড বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুন: Kawasaki Ninja ZX-10R-এ ২.৮৯ লাখ ডিসকাউন্ট! সুপারবাইক কেনার এই সুযোগ
শুধুমাত্র ব্রেকিং নয়, প্রযুক্তির দিক থেকেও বাইকটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। নতুন প্যাশন প্লাস ডিস্ক মডেলে দেওয়া হয়েছে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এই আধুনিক কনসোলে চালক রিয়েল-টাইম মাইলেজ (বাইকটি কত মাইলেজ দিচ্ছে), লো-ফুয়েল ওয়ার্নিং (তেল কমে যাওয়ার সতর্কবার্তা) এবং সার্ভিস রিমাইন্ডার দেখতে পাবেন।
সবচেয়ে বড় চমক হল এর ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি। স্মার্টফোনের সাথে বাইকটি পেয়ার বা যুক্ত করে নিলে, রাইডিং করার সময়ই ডিসপ্লে স্ক্রিনে কল এবং এসএমএস অ্যালার্ট চলে আসবে। এর ফলে জরুরি কোনো ফোন বা মেসেজ মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
দৈনিক ব্যবহারের জন্য চমৎকার প্র্যাক্টিকালিটি
রাইডারদের দৈনন্দিন সুবিধার কথা মাথায় রেখে হিরো এই বাইকে বেশ কিছু কাজের ফিচার যুক্ত করেছে:
- এলইডি প্রোজেক্টর হেডল্যাম্প: রাতে যাতায়াতের সময় রাস্তা পরিষ্কার দেখার জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী এলইডি লাইট।
- ইউএসবি চার্জিং পোর্ট: যাতায়াতের পথেই মোবাইল চার্জ করার জন্য রয়েছে ইন-বিল্ট ইউএসবি পোর্ট।
- সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ: স্ট্যান্ড নামানো থাকলে বাইকের ইঞ্জিন স্টার্ট হবে না, যা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করবে।
- ইউটিলিটি স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট: প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস রাখার জন্য রয়েছে ছোট স্টোরেজ বক্স।
ইঞ্জিন ও দুর্দান্ত মাইলেজ
মেকানিক্যালি বা ইঞ্জিনের দিক থেকে বাইকটিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এটি আগের মতোই নির্ভরযোগ্য ৯৭.২ সিসি একক-সিলিন্ডার এয়ার-কুল্ড ইঞ্জিন দ্বারা চালিত। এই ইঞ্জিনটি ৮,০০০ আরপিএম-এ ৫.৯ কিলোওয়াট (প্রায় ৭.৯১ বিএইচপি) পাওয়ার এবং ৬,০০০ আরপিএম-এ ৮.০৫ এনএম পিক টর্ক তৈরি করতে পারে। এর সাথে রয়েছে ৪-স্পিড গিয়ারবক্স।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বাইকে হিরো-র পেটেন্টেড i3S (Idle Stop-Start System) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাফিকে বাইক নিউট্রাল অবস্থায় থাকলে ইঞ্জিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্লাচ চাপলেই আবার চালু হয়, যা জ্বালানি সাশ্রয় করতে অত্যন্ত কার্যকর। হিরো মোটোকর্পের দাবি অনুযায়ী, এই বাইকটি প্রতি লিটারে ৭১ কিলোমিটার মাইলেজ দিতে সক্ষম। ফলে বর্তমান বাজারে এটি দৈনিক অফিস যাত্রী বা সাধারণ মানুষের পকেটের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
নতুন গ্রাফিক্স ও স্টাইলিশ লুকের সাথে হিরো প্যাশন প্লাস ডিস্ক ভ্যারিয়েন্টটি (Hero Passion Plus Disc) মোট ৪টি আকর্ষণীয় ডুয়াল-টোন কালার অপশনে বেছে নেওয়া যাবে। যথা – হেভি গ্রে, নেক্সাস ব্লু, ডার্ক ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রে, পার্ল রেড। যারা কম বাজেটের মধ্যে দারুণ মাইলেজ, আধুনিক টেকনোলজি এবং ডিস্ক ব্রেকের বাড়তি নিরাপত্তা খুঁজছেন, তাদের জন্য এই নতুন হিরো প্যাশন প্লাস ডিস্ক একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে চলেছে।
