Brij Bhushan Sharan Singh cleared in sexual harassment case

ভারতীয় ক্রীড়া জগতের অন্যতম বহুল চর্চিত আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (WFI)-র প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং (Brij Bhushan Sharan Singh)। ছয়জন মহিলা কুস্তিগীরের দায়ের করা যৌন হেনস্থার মামলায় আজ সোমবার, ৩ আগস্ট, তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত।

ব্রিজভূষণ শরণ সিং (Brij Bhushan Sharan Singh) বেকসুর খালাস

ভারতীয় কুস্তির তারকা অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তিনি সহ ছয়জন অ্যাথলেট ব্রিজভূষণের সভাপতির মেয়াদকালে তাঁর হাতে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। তবে ব্রিজভূষণ শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছিলেন।

২০২৩ সালে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক ও বজরং পুনিয়ার মতো অলিম্পিক পদকজয়ী ও শীর্ষস্থানীয় কুস্তিগীরেরা ব্রিজভূষণের গ্রেপ্তার এবং ফেডারেশন থেকে অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসের পর মাস ধর্নায় বসেন। দেশের নতুন সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার সময় পুলিশ একাধিক অ্যাথলেটকে আটক করলে এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সংস্থাগুলির কাছে সমালোচিত হয়।

উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার ঠিক কয়েক মাস আগেই অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট প্রকাশ্যেই জানান যে তিনি এই মামলার ছয়জন অভিযোগকারীর মধ্যে একজন ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি ভিডিও বার্তায় ভিনেশ জানান, যৌন হেনস্থার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে তিনি এতদিন নিজের নাম গোপন রেখেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান রেসলিং ফেডারেশন এখনও ব্রিজভূষণের ব্রিজভূষণ শরণ সিং (Brij Bhushan Sharan Singh) প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে এবং গোণ্ডায় তাঁর মালিকানাধীন কলেজে ব়্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসের আগে অ্যাথলেটদের জন্য নিরপেক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: বাবার নীতিকে বুড়ো আঙুল! সিজেপি আন্দোলনের সমর্থনে সোচ্চার বিজেপি নেতার কন্যা

বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ এর আগে একজন নাবালিকা কুস্তিগীরের দায়ের করা পৃথক একটি মামলায় রেহাই পেয়েছিলেন, যেখানে দিল্লি পুলিশ মামলা বাতিলের সুপারিশ রিপোর্ট পেশ করলে আদালত তা গ্রহণ করে। সোমবারে আদালতের এই রায় ছয় প্রাপ্তবয়স্ক কুস্তিগীরের মামলার ফৌজদারি প্রক্রিয়ার আপাতত সমাপ্তি ঘটাল।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্রিজভূষণ শরণ সিং বলেন, “আমি প্রথম দিনেই বলেছিলাম, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তবে আমি ফাঁসি নেব। আজ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটা আমার জন্য এবং আমার সমর্থকদের জন্য দারুণ সুসংবাদ। এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।”

এই হাই-প্রোফাইল মামলার ইতিহাস অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সাথে বৈঠকের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য একটি ওভারসাইট কমিটি গঠন করা হলে কুস্তিগীরেরা সাময়িকভাবে প্রতিবাদ স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু কমিটির রিপোর্টের পর কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে নতুন করে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানানো হয়। ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশ দুটি এফআইআর রুজু করে – একটি ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক কুস্তিগীরের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং অপরটি নাবালিকার অভিযোগে পকসো (POCSO) আইনে।

২০২৩ সালের ১৫ জুন দিল্লি পুলিশ চার্জশিট পেশ করে এবং ২০২৪ সালের মে মাসে আদালত ব্রিজভূষণ ব্রিজভূষণ শরণ সিং (Brij Bhushan Sharan Singh) ও ডব্লিউএফআই-এর প্রাক্তন সহকারী সচিব বিনোদ তোমারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। দীর্ঘ শুনানিতে ৩২ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ২ জুলাই চূড়ান্ত যুক্তি তর্ক সম্পন্ন হয়েছিল। অবশেষে ৩ আগস্ট ২০২৬ সালে দিল্লির আদালত ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved