২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পালিত হতে চলেছে মৌনী অমাবস্যা (Mauni Amavasya 2026)। যা হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। মাঘ মাসের এই অমাবস্যাকে ‘মাঘী অমাবস্যা’ও বলা হয়। শাস্ত্রীয় মতে, এই দিনটি স্নান, দান-পুণ্য, তর্পণ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মৌন সাধনার জন্য মহোৎসবের তুল্য। বিশেষ করে প্রয়াগরাজের সঙ্গম তটে এই দিন পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। কারণ মনে করা হয় এই দিনটি আত্মিক শুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।
মৌনী অমাবস্যার (Mauni Amavasya 2026) মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘মৌন’ বা নীরবতা পালন করা। কথিত আছে, এই দিন মৌনব্রত পালন করে পবিত্র নদীতে স্নান করলে আত্মশুদ্ধি ঘটে এবং ব্যক্তির ভেতরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এছাড়া মৌন সাধনার ফলে কথা বলা সংক্রান্ত যাবতীয় দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যারা এই বিশেষ দিনে পবিত্র নদীতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁরা ঘরে বসেই স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান করতে পারেন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘরে স্নান করাও গঙ্গাস্নানের সমান পুণ্যদায়ক।
জানিয়ে রাখি, ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে অমাবস্যার (Mauni Amavasya 2026) তিথি আরম্ভ হচ্ছে। রবিবার রাত ১টা ২২ মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা তিথি চলবে। আবার রবিবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিট থেকে পরের দিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৭টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সর্বার্থ যোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এর সঙ্গেই থাকছে হর্ষণ যোগ ও শিব বাস যোগ।
এই তিথিতে স্নানের মাহাত্ম্য অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয় যে, মৌনী অমাবস্যার দিন গঙ্গায় ডুব দিলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে যায় এবং হাজারটি অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সমান ফল লাভ হয়। আধ্যাত্মিক সুফল ছাড়াও শীতল জলে স্নান করলে শরীরে শক্তির সঞ্চার হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি মৌন থেকে স্নান করলে মন স্থির হয় এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কেবল স্নান নয়, মৌনী অমাবস্যায় (Mauni Amavasya 2026) দান করার প্রথাও অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী বলে মানা হয়। এই দিন তিল, গুড়, চাল, ডাল, আটা অথবা পশমী বস্ত্র ও কম্বল দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। সামর্থ্য থাকলে এই দিন স্বর্ণ বা ভূমি দান করারও রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে, এই বিশেষ দিনে করা দান কখনও বিফল হয় না। বিশেষ করে তিল ও কালো বস্ত্র দান করলে শনির দোষ কেটে যায় এবং পূর্বপুরুষরা তৃপ্ত হন। মহিলারা এই দিন দান-ধ্যান করলে তাঁদের বৈবাহিক জীবন সুখী ও শান্তিময় হয়। এছাড়া অভাবীদের অন্নদান করলে সংসারের আর্থিক সঙ্কট দূর হয় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
আরও পড়ুন: ১৭ জানুয়ারি শনির কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে কোন রাশি?
বিঃ দ্রঃ – এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্যসমূহ প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকমতের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। এগুলির সম্পূর্ণ নির্ভুলতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে কোনো সুনিশ্চিত দাবি করা হচ্ছে না। যেকোনো আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা শ্রেয়।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…