ভারতীয় বাজারে অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী স্পোর্টস বাইক ‘নিনজা জেডএক্স-১০আর’ (Kawasaki Ninja ZX-10R)-এর ওপর এক বিশাল ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে কাওয়াসাকি। নিজেদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কাওয়াসাকি জানিয়েছে, গ্রাহকরা এখন এই প্রিমিয়াম বাইকটিতে সরাসরি ২.৮৯ লক্ষ টাকার এক অবিশ্বাস্য ছাড় পাবেন। আরও জানানো হয়, এই আকর্ষণীয় অফার আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
Kawasaki Ninja ZX-10R: নতুন দাম
এই বিশাল পরিমাণ ছাড় দেওয়ার পর কাওয়াসাকি নিনজা জেডএক্স-১০আর (Kawasaki Ninja ZX-10R) বাইকটির নতুন এক্স-শোরুম মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭,৯০,০০০ টাকা। তবে এই মূল্যের পেছনে একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে যা ক্রেতাদের জেনে রাখা প্রয়োজন। মূলত এই ছাড় একটি ভাউচার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা বাইকের মূল এক্স-শোরুম মূল্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। যদিও এই অফারের কারণে বাইকটি আগের চেয়ে অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে চলে এসেছে, তবুও এর রোড ট্যাক্স, রেজিস্ট্রেশন এবং বিমা সংক্রান্ত খরচ কিন্তু বাইকটির পূর্বের এক্স-শোরুম দামের ওপর ভিত্তি করেই হিসেব করা হবে।
আরও পড়ুন: নয়া অ্যাডভেঞ্চার বাইকের টেস্টিং চালাচ্ছে বাজাজ! কেমন বৈশিষ্ট্য থাকবে এতে?
উল্লেখ্য, এই ছাড় পাওয়ার আগে বাইকটির প্রকৃত এক্স-শোরুম দাম ছিল ২০,৭৯,০০০ টাকা। তবুও এই ভাউচারের মাধ্যমে গ্রাহকদের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দিয়ে তাঁরা উচ্চমানের রাইডিং গিয়ার (সুরক্ষা কবচ) কিনতে পারেন অথবা নিজেদের মোটরসাইকেলটিকে আরও উন্নত করার জন্য বিভিন্ন অ্যাক্সেসরিজ আপগ্রেড করতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
ইঞ্জিনের ক্ষমতা
বিপুল অঙ্কের এই মূল্যহ্রাসের ফলে মোটরসাইকেলটির বৈশিষ্ট্যতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এটি আগের মতোই নিজস্ব চেনা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাথেই বাজারে উপলব্ধ থাকবে। এতে শক্তির উৎস হিসাবে রয়েছে সেই বিখ্যাত ৯৯৮ সিসি-র ইনলাইন-ফোর, লিকুইড-কোল্ড ইঞ্জিন। এই দানবীয় ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ২০২ বিএইচপি শক্তি (র্যাম এয়ার ইনটেক প্রযুক্তির সাহায্যে) এবং ১১২ এনএম-এর পিক টর্ক উৎপন্ন হয়। এর ফলে চালক রাস্তায় এক অভাবনীয় গতির অভিজ্ঞতা পান।
আধুনিক ফিচার ও রাইডিং অ্যাসিস্ট
রাইডারের রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও রোমাঞ্চকর এবং নিরাপদ করে তুলতে এই মোটরসাইকেলে (Kawasaki Ninja ZX-10R) একগুচ্ছ আধুনিক ফিচার ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাইকটির ড্যাশবোর্ডে রয়েছে একটি উন্নত টিএফটি কনসোল, যা থেকে বাইকের গতি, গিয়ার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য স্পষ্টভাবে পড়া যায়। এছাড়াও চালকের সুরক্ষার জন্য এতে বেশ কিছু অত্যাধুনিক রাইডিং এইডস যুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একাধিক রাইডিং মোড (যা রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী বাইকের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে), ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, লঞ্চ কন্ট্রোল এবং ইঞ্জিন ব্রেক কন্ট্রোল।
এখানেই শেষ নয়, দ্রুত এবং মসৃণভাবে গিয়ার পরিবর্তনের জন্য এতে রয়েছে একটি বাই-ডাইরেকশনাল কুইকশিফটার এবং দূরপাল্লার রাস্তায় ক্লান্তিহীন সফরের জন্য দেওয়া হয়েছে ক্রুজ কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো প্রিমিয়াম সুবিধা। সব মিলিয়ে, যারা একটি লিটার-ক্লাস সুপারবাইক কেনার কথা ভাবছিলেন, ৩০ জুনের মধ্যে কাওয়াসাকির এই বিশেষ অফারটি লুফে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে এটিই সেরা সুযোগ।
