ভারতে পরিবেশবান্ধব ও বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের অটোমোবাইল বাজারে ছোট বা সাব-কম্প্যাক্ট ইলেকট্রিক গাড়িগুলির চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই লাভজনক বাজার ধরতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা কিয়া (Kia) সম্প্রতি ভারতীয় বাজারে তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘কিয়া সাইরস ইভি’ (Kia Syros EV) উন্মোচন করেছে। বাজারে পা রাখতেই টাটা পাঞ্চ ইভি (Tata Punch EV) এর কড়া প্রতিপক্ষ হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। এটি আবার ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইলেকট্রিক গাড়িগুলির মধ্যে একটি। এই দুই শক্তিশালী সাব-কম্প্যাক্ট ইলেকট্রিক এসইউভি-র ব্যাটারি প্যাক, ফিচার এবং পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হল।
Tata Punch EV বনাম Kia Syros EV – ব্যাটারি প্যাক
শুরুতেই আসা যাক দুই গাড়ির ব্যাটারি প্যাক এবং পারফরম্যান্সের কথায়। কিয়া সাইরস ইভি-তে (Kia Syros EV) দুটি লিকুইড-কুল্ড লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প দেওয়া হয়েছে, যার একটি ৪২ কিলোওয়াট আওয়ার এবং অন্যটি ৫১.৪ কিলোওয়াট আওয়ার। প্রথম ব্যাটারি প্যাকটি সামনের এক্সলে যুক্ত ইলেকট্রিক মোটরের সাহায্যে ১৩২.৭৬ বিএইচপি পাওয়ার এবং ২৪৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। অন্যদিকে, ৫১.৪ কিলোওয়াট আওয়ারের বড় ব্যাটারি প্যাকটি ১৬৮.৯ বিএইচপি-র চমৎকার পাওয়ার এবং ২৫৫ এনএম টর্ক দিতে সক্ষম।
অন্যদিকে, টাটা পাঞ্চ ইভি-তেও দুটি ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রয়েছে। যথা – ৩০ কিলোওয়াট আওয়ার এবং ৪০ কিলোওয়াট আওয়ার। এগুলি পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সিনক্রোনাস মোটরের মাধ্যমে যথাক্রমে ৮৭.১৬ বিএইচপি ও ১৫৪ এনএম টর্ক এবং ১২৭.৩ বিএইচপি ও ১৫৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। টাটা পাঞ্চ ইভি ছোট ব্যাটারিতে ৩৭৪ কিলোমিটার এবং বড় ব্যাটারিতে ৪৬৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রাইভিং রেঞ্জ প্রদান করে।
আরও পড়ুন: স্লিপার ক্লাচ ও ইউএসবি টাইপ-সি চার্জার সহ ভারতে লঞ্চ হল নতুন ক্লাসিক ৩৫০, জানুন এর দাম ও ফিচার্স
ফিচারের দিক থেকে তুলনা
ফিচার ও আধুনিক প্রযুক্তির দিক থেকে দুই সংস্থাই তাদের গাড়িতে কোনো খামতি রাখেনি। কিয়া সাইরস ইভি-তে (Kia Syros EV) দেওয়া হয়েছে একটি প্যানোরামিক সানরুফ, ১২.৩ ইঞ্চির সুবিশাল টাচস্ক্রিন ডিজিটাল ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, সামনে ও পেছনের ভেন্টিলেটেড সিট, ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ডায়নামিক অ্যাসিস্ট্যান্স সহ রিয়ার-ভিউ ক্যামেরা এবং ক্রুজ কন্ট্রোল। এছাড়াও এতে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, শিফ্ট-বাই-ওয়্যার এবং টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেমের মতো প্রিমিয়াম সুবিধা রয়েছে।
অন্যদিকে, টাটা পাঞ্চ ইভি-তে উপস্থিত অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সমর্থিত ১০.২৪ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন, ইন্টিগ্রেটেড নেভিগেশন সহ ১০ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, কানেক্টেড কার টেকনোলজি, সামনের ভেন্টিলেটেড সিট, ভয়েস-অ্যাসিস্টেড ইলেকট্রিক সানরুফ, ওয়্যারলেস চার্জিং, কুলড গ্লাভবক্স এবং টাচ-ভিত্তিক এইচভিএসি কন্ট্রোল।
আরও পড়ুন: ৮৫ শতাংশ ইথানলে ছুটতে সক্ষম! ভারতে লঞ্চ হল Yamaha FZ Blue Flex, দাম কত?
নিরাপত্তায় কোনটি এগিয়ে?
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিয়া সাইরস ইভি (Kia Syros EV) বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে, কারণ এতে ১৬টি অটোনমাস ফিচার সমৃদ্ধ লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (অ্যাডাস) দেওয়া হয়েছে। এর সাথে অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম, ব্রেক অ্যাসিস্ট সিস্টেম, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম, ভেহিকল স্টেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট, হিল-স্টার্ট অ্যাসিস্ট কন্ট্রোল এবং চার চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক বর্তমান। টাটা পাঞ্চ ইভি-তে অ্যাডাস প্রযুক্তি না থাকলেও সুরক্ষার জন্য এতে ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইএসপি, এবিএস, ইবিডি, হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট, ৩৬০-ডিগ্রি সারাউন্ড ভিউ ক্যামেরা, ব্লাইন্ড স্পট ভিউ মনিটর এবং হিল ডিসেন্ট কন্ট্রোলের মতো চমৎকার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
কোনটি সস্তা?
সবশেষে আসে দামের প্রসঙ্গ। ভারতীয় বাজারে টাটা পাঞ্চ ইভি-র প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৯.৬৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১২.৫৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যায়। তবে টাটার ‘ব্যাটারি অ্যান এ সার্ভিস’ মালিকানা প্রোগ্রামের অধীনে গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম মাত্র ৬.৪৯ লক্ষ টাকা এবং এর সাথে প্রতি কিলোমিটারে ২.৬ টাকা হারে ব্যাটারির ইএমআই দিতে হবে। অন্যদিকে, কিয়া এখনও পর্যন্ত তাদের সাইরস ইভি-র অফিসিয়াল দাম ঘোষণা করেনি। তবে অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিয়ার এই নতুন ইলেকট্রিক গাড়ির (Kia Syros EV) আনুমানিক প্রারম্ভিক দাম প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি রাখা হতে পারে।
