ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এক সময় যে গাড়িটি কমপ্যাক্ট এসইউভি সেগমেন্টের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, সেই রেনো ডাস্টার (Renault Duster) আবারও ফিরেছে এক সম্পূর্ণ নতুন অবতারে। প্রায় এক দশক পর নিজের তৃতীয় প্রজন্মের মডেলে ডাস্টার এমন এক সময়ে ভারতের মাটিতে পা রাখল, যখন ক্রেতাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চমানের সুরক্ষা এবং শক্তিশালী ইঞ্জিনের সংমিশ্রণে তৈরি এই নতুন ডাস্টার কেবল একটি পুরোনো নামের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি রেনো কোম্পানির একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক। কোম্পানির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যে তথ্যগুলি সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট যে এই গাড়িটি বর্তমান বাজারের প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত। চলুন গাড়িটির প্রধান পাঁচটি হাইলাইট জেনে নেওয়া যাক।
নতুন ডাস্টারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বাহ্যিক ডিজাইন। ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। যদিও এটি আন্তর্জাতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ডাস্টারের লুক বেশ আলাদা। এর সামনের অংশে থাকছে রিডিজাইন করা হেডল্যাম্প এবং ভ্রু-এর মতো দেখতে আকর্ষণীয় এলইডি ডিআরএল। এটি একই সঙ্গে টার্ন ইন্ডিকেটর হিসেবেও কাজ করবে। গ্রিলের নকশায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। রেনো লোগোর বদলে সেখানে সরাসরি ‘ডাস্টার’ লেখাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া রুপালি অ্যাকসেন্ট দেওয়া সামনের বাম্পার এবং পিক্সেল স্টাইলের ফগ ল্যাম্প গাড়িটিকে একটি আধুনিক অথচ রাফ-অ্যান্ড-টাফ লুক দিয়েছে। পেছনের দিকে এলইডি লাইট বার যুক্ত টেল-ল্যাম্প উপস্থিত। বিশ্ববাজারে উপলব্ধ মডেলে এটি দেখা যায় না। এটি ভারতীয় ডাস্টারকে একটি প্রিমিয়াম টাচ প্রদান করেছে।
ভারতীয় রাস্তাঘাটের কথা মাথায় রেখে এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে ২১২ মিলিমিটার, যা যেকোনো প্রতিকূল রাস্তায় চলাচলের জন্য যথেষ্ট। এসইউভি-টির অ্যাপ্রোচ এবং ডিপারচার অ্যাঙ্গেল যথাক্রমে ২৬.৯ ডিগ্রি এবং ৩৪.৭ ডিগ্রি হওয়ায় এটি অফ-রোডিংয়েও বেশ সাবলীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪,৩৪৩ মিলিমিটার এবং এর হুইলবেস ২,৬৫৭ মিলিমিটার, যা কেবিনের ভেতরে যথেষ্ট জায়গার নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়া ১৮ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল এবং ৫০ কেজি ভার বহনে সক্ষম রুফ রেল গাড়িটির ব্যবহারিক উপযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে। মালপত্র রাখার জন্য এতে রয়েছে বিশাল ৫৯৪ লিটারের বুট স্পেস, যা লম্বা সফরের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
আরও পড়ুন: নতুন কম্প্যাক্ট ইলেকট্রিক এসইউভি আনছে Hyundai, দর্শন দিল
কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে এক নতুন দুনিয়া। ইউরোপীয় মডেলের তুলনায় ভারতীয় ডাস্টারের ড্যাশবোর্ড লেআউট সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেওয়া হয়েছে ১০.১ ইঞ্চির একটি বিশাল টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং চালকের সামনে থাকছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। ইন্টেরিয়রে লেদারেট অ্যাপহোলস্ট্রি এবং ড্যাশবোর্ড জুড়ে সফট-টাচ মেটেরিয়াল ব্যবহারের ফলে গাড়িটির ভেতরটা বেশ বিলাসবহুল হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি রেনো ফিজিক্যাল বাটনের প্রয়োজনীয়তা ভুলে যায়নি, ফলে এসি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পেছনের যাত্রীদের আরামের জন্য কাপ হোল্ডারসহ সেন্টার আর্মরেস্ট এবং চালকের জন্য স্লাইড-অ্যাডজাস্টেবল আর্মরেস্টের মতো ছোটখাটো দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিনের ক্ষমতার দিকে তাকালে দেখা যায়, লঞ্চের সময় রেনো দুটি টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের বিকল্প দেবে। ছোট ১.০ লিটার ইঞ্জিনটি ১০০ হর্সপাওয়ার এবং ১৬০ এনএম টর্ক তৈরি করবে, যা ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে যারা আরও বেশি শক্তি চান, তাদের জন্য রয়েছে ১.৩ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ১৬৩ হর্সপাওয়ার এবং ২৮০ এনএম টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে স্ট্রং-হাইব্রিড সংস্করণ, যা ২০২৬ সালের দীপাবলির মধ্যে বাজারে আসবে। ১.৮ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সহায়তায় এটি ১৬০ হর্সপাওয়ার শক্তি দেবে। তবে এসইউভি প্রেমীদের জন্য একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, নতুন ডাস্টারে অল-হুইল ড্রাইভ (AWD) সুবিধা থাকছে না।
সুরক্ষার বিষয়ে রেনো এবার কোনো আপস করেনি। লেভেল ২ এডিএএস (ADAS) প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গাড়িটি রাস্তায় অনেক বেশি নিরাপদ হবে। এছাড়া ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, চারটি চাকায় ডিস্ক ব্রেক এবং স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ৬টি এয়ারব্যাগ দেওয়া হয়েছে। প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট এবং ডুয়াল-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোলের মতো আধুনিক সব ফিচার এতে অন্তর্ভুক্ত। রেনো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে যে তারা এই গাড়ির জন্য ফাইভ-স্টার ক্র্যাশ সেফটি রেটিং লক্ষ্য করছে এবং গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত রাখতে ৭ বছর বা ১.৫০ লক্ষ কিলোমিটারের স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি প্রদান করবে। সব মিলিয়ে নতুন রেনো ডাস্টার (Renault Duster) ভারতের এসইউভি বাজারে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে সম্পূর্ণ তৈরি।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…