সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস (Nifty-Sensex Share Market)। পতনের সাক্ষী থাকল হাজারো বিনিয়োগকারী। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল দিতে পারেনি। ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে। সোমবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স ১৬১৩.০৯ পয়েন্ট পড়ে ৭৫,৯৩৭.১৬-এ নেমে আসে। অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ৪৯৫ পয়েন্ট খুইয়ে ২৩,৫৫৫.৬০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে ভারতের দালাল স্ট্রিটে হাহাকার শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের মাটিতে চলা দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও আলোচনার ব্যর্থতায় তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। এই ব্যর্থতার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে দায়ী করছে। ফলত বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক লাফে ৭.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০২.২ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভারতের মতো আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
আরও পড়ুন: ডিজেল ও বিমান জ্বালানিতে রপ্তানি শুল্ক ব্যাপক বাড়াল কেন্দ্র
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ঘোষণার ফলেই এমন পরিস্থিতি। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলী ভি. কে. বিজয়কুমার জানিয়েছেন, তেলের দাম ১০৩ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতি ও বাজার উভয়ের জন্যই এক বড় হুমকি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার সকালে সেনসেক্সের অন্তর্ভুক্ত ৩০টি সংস্থার শেয়ারই লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। টাইটান, সান ফার্মা, এনটিপিসি, ভারত ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার গ্রিড এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় সংস্থাগুলি সবথেকে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি, জাপানের নিক্কেই, সাংহাইয়ের এসএসই কম্পোজিট এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং – সব জায়গাতেই লাল বাতি জ্বলছে (Nifty-Sensex Share Market)। এর আগে গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল মার্কিন বাজারে মিশ্র ফল দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় শেয়ার বাজারও বেশ চাঙা ছিল। শুক্রবার সেনসেক্স ৯১৮ পয়েন্ট বাড়ে এবং নিফটি ২৭৫ পয়েন্ট উঠে বন্ধ হয়েছিল। সেদিন বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৬৭২.০৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিলেন। কিন্তু সপ্তাহান্তের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ সেই খুশির আমেজকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়েছে।
লিভলং ওয়েলথের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্লেষক হরিপ্রসাদ কে জানান, ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে। তারা এখন ঝুঁকি নিতে নারাজ। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে বিনিয়োগ সরাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে আগামী দিনেও শেয়ার বাজারে পতনের ধারা (Nifty-Sensex Share Market) অব্যাহত থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চৈত্র সংক্রান্তি এবং নতুন বছরের ঠিক আগে শেয়ার বাজারের এই ধস সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক মহলের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছে।
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…
ভারতের মোটরসাইকেল বাজারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বাজাজ অটো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ বাইক ডোমিনার ৪০০-এর একটি…
ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated…
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বনাম টুইটার) তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য (Elon Musk's X…
‘ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো’ (Infinix Note 60 Pro launched) ভারতের বাজারে লঞ্চ হল। দেশের স্মার্টফোন…