সপ্তাহের দ্বিতীয় ট্রেডিং সেশনে, মঙ্গলবার ভারতের ইকুইটি বাজার তীব্র বিক্রির চাপে পড়ে বড় পতন (Share Market Crash) নথিভুক্ত করেছে। সোমবারের পতনের পরে, এ দিনও বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেত, বিদেশি তহবিলগুলির (FIIs) ধারাবাহিক বিক্রি এবং মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারগুলির উপর তীব্র চাপ — এই তিনটি কারণ মিলিতভাবে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে স্পষ্টভাবে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এ দিন সকালে বাজার খোলার পরেই সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্টেরও বেশি হারিয়ে ৮৪,৪০০-এর নীচে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটিও দ্রুত পিছলে গিয়ে ২৫,৮০০-এর নীচে নেমে যায়। ব্যাংকিং, মেটাল এবং আইটি — এই তিনটি প্রধান সেক্টর সূচকেই জোরালো বিক্রি চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
উচ্চ মার্কিন বন্ড-ইল্ড, শক্তিশালী ডলার এবং ভারতীয় টাকার দর ডলার প্রতি ৯০ ছুঁয়ে যাওয়া— এই পরপর অর্থনৈতিক ধাক্কাগুলি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় চালের উপর নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিতও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এনরিচ মানি (Enrich Money)-র সিইও পোনমুদি আর জানান, এই সমস্ত কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবেই বাজারের মনোভাব শুরু থেকেই দুর্বল ছিল। তার মতে, “সাম্প্রতিক দ্রুত বৃদ্ধির পরে স্পষ্ট মুনাফা-বুকিং দেখা যাচ্ছে। আইটি ও ব্যাংকিং শেয়ারে ধীরে ধীরে আনওয়াইন্ডিং হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষার দিকে ঝুঁকছেন।”
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস (Geojit Investments)-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার মনে করেন, গত কয়েক সপ্তাহে বাজারের ঊর্ধ্বগতি বা ‘র্যালি’ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ।
তিনি বলেন, “নিফটি যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তখনও এনএসই ৫০০-এর ৩২০টিরও বেশি শেয়ার তাদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ শিখরের অনেক নিচে ছিল।” ফলস্বরূপ, মধ্য ও ছোট শেয়ারে বেশি বিনিয়োগ থাকা খুচরো বিনিয়োগকারীরা সেই লাভের অংশের কোনো অংশীদার হতে পারেননি। বর্তমানে সেই অসামঞ্জস্যই বড়সড় বিক্রি চাপের রূপ নিয়েছে। অতিমূল্যায়িত মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ শেয়ারে তীব্র মুনাফা-বুকিং দেখা যাচ্ছে, যার ফলে দাম দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কেবলমাত্র কিছু বাছাই করা বড় শেয়ার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
বিজয়কুমার আরও মনে করেন যে মিড-ক্যাপের এই সংশোধন কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। এর পরে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল ‘অ্যাকিউমুলেশন’ বা কেনার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার নিয়ে তিনি বলেন, “ডিফেন্স সেগমেন্ট ধীরে ধীরে ভ্যালু-জোনে প্রবেশ করছে।”
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস-এর চিফ মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট আনন্দ জেমস জানান, বাজারের নিকট-মেয়াদি টেকনিক্যাল স্তর অত্যন্ত নাজুক। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নিফটি ২৫,৮৪২-এর স্তর ভেঙে গেলে তা ২৫,৬৫০ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। বিপরীতে, স্পষ্ট ইতিবাচকতা দেখা যাবে কেবল ২৬,০০০-এর ওপরে স্থিত হলে।”
মেহতা ইক্যুইটিজ (Mehta Equities)-এর সিনিয়র ভিপি (রিসার্চ) প্রশান্ত তাপসে উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহের আরবিআই (RBI)-এর রেট-কাট বাজারে কোনো স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি বলেন, “আগামী দশ ডিসেম্বর ফেডের সম্ভাব্য রেট-কাটের আশাতেও মনোভাব তেমন চাঙা হয়নি। এফআইআই-দের টানা বিক্রি, রুপির দুর্বলতা এবং দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত — বাজারকে স্পষ্টতই দুর্বল করে রেখেছে।”
চয়েস ইক্যুইটি ব্রোকিং-এর অমৃতা শিন্ডে জানান, সোমবার এফআইআই-রা ৬৫৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে— যা টানা তৃতীয় দিনের বিক্রির ফলে বাজার চাপ আরও বাড়িয়েছে। তবে, ঘরোয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DIIs) ২,৫৪২ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এই অস্থির পর্বে (Share Market Crash) অত্যন্ত সতর্ক থাকা এবং লিভারেজ কমানো জরুরি। তাদের সুপারিশ— ২৬,৩০০-এর ওপরে স্থিতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন দীর্ঘ পজিশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো, এবং অবশ্যই কঠোর স্টপ-লস বজায় রাখতে হবে।
১৫ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার: চৈত্র সংক্রান্তির (Daily Horoscope) সমাপ্তি ঘটিয়ে আজ সূচনা হল বাংলা নববর্ষের।…
স্মার্টফোন প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতীয় বাজারে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ লঞ্চ করতে চলেছে…
সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। নাওয়া-খাওয়া ফেলে জোরকদমে চলছে ভোটপ্রচার। রাজ্যের সমস্ত পার্টির ক্ষেত্রে চিত্রটি প্রায়…
চৈত্র সংক্রান্তির (WB Weather Update April) শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যখন চূড়ান্ত অস্বস্তিকর হয়ে…
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…