বাংলার গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত শীতের প্রথম হিমেল ছোঁয়া (West Bengal weather forecast) ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের 9 তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যের আবহাওয়া থাকবে মূলত শুষ্ক। তবে এই শুষ্কতার মাঝেই রাজ্যের উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় অঞ্চলেই রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় 2-3 ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে আসবে। বিশেষত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রায় সামান্য উত্থান দেখা গেলেও, সামগ্রিকভাবে শীতের তীব্রতা বাড়বে, যা কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে।
আলিপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুসারে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি যেমন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের জন্য, বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া এবং বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে বেশি শীতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে রাজ্যে বৃষ্টির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে শুষ্ক হাওয়ার প্রভাবে বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য শরীরে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হতে পারে।
আইএমডি-র সাপ্তাহিক পূর্বাভাস (5 থেকে 11 ডিসেম্বর) অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় সকালের তাপমাত্রা 7 ডিগ্রি থেকে 17 ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। দার্জিলিং-এ রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 7-8 ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে 14-15 ডিগ্রির কাছাকাছি। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও, উত্তর হিমালয়ের কোল থেকে আসা শীতল বাতাস দক্ষিণের দিকে বইতে শুরু করায় জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের সমতলগুলিতেও হালকা শীতলতা অনুভূত হবে।
কৃষকদের মতে, চা বাগানগুলির জন্য শুষ্ক আবহাওয়া পাতার বিকাশে সহায়ক, তবে তাপমাত্রা আরও নিচে নামলে ফসলের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হবে।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গের থেকে কিছুটা ভিন্ন। রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 16-17 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 26-27 ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়ার মতো জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা 14-15 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে 2 ডিগ্রি কম। এই সময়ে আকাশ থাকবে পরিষ্কার এবং আর্দ্রতার পরিমাণ 60 থেকে 70 শতাংশের মধ্যে থাকবে। বাতাসের গতি থাকবে ঘণ্টায় 5 থেকে 10 কিলোমিটার।
এই সময়ে কোনো ঘন কুয়াশা বা বৃষ্টির আশঙ্কা নেই, তবে সকালে হালকা শিশির পড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে যে দক্ষিণে এই নিচু তাপমাত্রা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। এই ঠান্ডা মূলত উত্তর ভারতের শীতল হাওয়ার প্রভাবে প্রভাবিত, যেখানে নয় তারিখ থেকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও সেই তীব্র প্রভাব বাংলায় সরাসরি না পৌঁছালেও, পশ্চিম দিক থেকে শীতল বায়ু প্রবেশ করায় তাপমাত্রা কমছে।
আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষে অর্থাৎ 12 এবং 13 ডিসেম্বর নাগাদ ঠান্ডা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। বর্তমানে রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই শুষ্কতা বিরাজ করছে, যা কৃষি এবং জলসম্পদের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ধানক্ষেতে এই শুষ্কতা ফসলের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে উত্তরবঙ্গের চা ও কফি বাগানে শীতল আবহাওয়া কিছুটা স্বাগত জানাবে। সামগ্রিকভাবে, এই শীতে (West Bengal weather forecast) বঙ্গবাসী এখন জাঁকিয়ে ঠান্ডা উপভোগ করার জন্য প্রস্তুত।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…