গ্ল্যামার জগতের জনপ্রিয় মুখ চাহাত খন্না (Chahatt Khanna)। ব্যক্তিগত জীবন এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ফরহান মির্জার সঙ্গে বিবাহের সূত্রে ধর্ম পরিবর্তন এবং পরবর্তীকালে বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পুনরায় নিজের ধর্মে ফিরে আসা নিয়ে তাঁকে বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
চাাহাতের বক্তব্য (Chahatt Khanna)
চাহাতের (Chahatt Khanna) মতে, তাঁর বক্তব্যকে অনেক সময় বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হয়। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর ধর্ম পরিবর্তন করা বা পুনরায় নিজের ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ছিল। বিয়ের সময় তিনি বাধ্য হয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছেতেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অনেকে দাবি করেছিলেন আমাকে নাকি বাধ্য করা হয়েছিল, কিন্তু আমি নিজে কখনও এমন কথা বলিনি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি জন্মগতভাবেই একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এবং বিয়ের আগেও তিনি যেমন সব উৎসব পালন করতেন, বর্তমানেও তেমনই করেন।
আরও পড়ুন: দীপিকা-রণবীরের সংসারে নতুন অতিথি! দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী
নিজের আধ্যাত্মিক চেতনার কথা বলতে গিয়ে চাহাত জানান যে, তিনি ইসলাম এবং সনাতন – উভয় ধর্মের আদর্শেই সমানভাবে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “আমি খুবই উদারমনা এবং ধর্মনিরপেক্ষ। আমি যেমন ইদ পালন করি, তেমনই দীপাবলিও ধুমধাম করে উদ্যাপন করি। এর মানে এই নয় যে আমি অন্য কোনো ধর্মকে সম্মান করি না।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজেকে আটকে না রেখে তিনি সকল ধর্মের ইতিবাচক দিকগুলোকে আপন করে নিতে পছন্দ করেন।
View this post on Instagram
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং বিচ্ছেদের পর সমাজমাধ্যমে যে নেতিবাচকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক সময় চাহাতকে (Chahatt Khanna) মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ক্রমাগত কটাক্ষ ও কাদা ছোড়াছুড়িতে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। নিজের কেরিয়ার ও পরিচিতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ভেঙে পড়লেও এখন সেই পর্যায় কাটিয়ে উঠেছেন। অভিনেত্রী মনে করেন, মানুষের সমালোচনার চেয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সততা অনেক বেশি জরুরি। তাই ধর্ম পরিবর্তন বা জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েই তাঁর মনে এখন আর কোনো অনুশোচনা বা দ্বিধা নেই। বরং বর্তমানে তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের শর্তে বাঁচতে শিখেছেন।
