টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) অকাল প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে চরম শোকের ছায়া এনেছে। শ্যুটিং ফ্লোরে শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা যে কতটা ঠুনকো, রাহুলের মৃত্যু যেন সেই রূঢ় বাস্তবকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। এই শোকাতুর পরিবেশে যখন টলিপাড়ার প্রতিটি শিল্পী একজোট হয়ে সুরক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, আর্টিস্ট ফোরাম থেকে ফেডারেশন দফায় দফায় বৈঠক করছে, তখন ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার জিতের (Jeet Trolled) অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনেকের মনে। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা মুম্বই থেকে শহরে ফিরেই পৌঁছে যান রাহুলের বিজয়গড়ের বাড়িতে। কিন্তু এই সফর শান্তিতে মিটলেও জিতের পিছু ছাড়ল না বিতর্ক।
গত শুক্রবার মুম্বই থেকে কলকাতায় ফিরে সরাসরি প্রয়াত অভিনেতার বাড়িতে যান জিৎ। সেখানে রাহুলের মা এবং দাদার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান তিনি। রাহুলের নিজস্ব পডকাস্ট স্টুডিও ‘সহজ কথা’-তে বসেই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় সুপারস্টারকে। তবে বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। জিতের এই সফর চলাকালীন তাঁর টিমের পক্ষ থেকে রাহুলের মায়ের হাত ধরে বসে থাকার বা কথা বলার দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হয়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড় (Jeet Trolled)। শোকের আবহে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করা এবং সেই মুহূর্তকে রিলস হিসেবে তুলে ধরাকে অনেকেই ভালোভাবে নেননি।
আরও পড়ুন: মুক্তির আগেই ‘জন নায়গন’-এর ফুটেজ ফাঁস – ক্ষোভে ফুঁসলেন শিবকার্তিকেয়ান
নিন্দার ঝড়ে বিদ্ধ জিৎ (Jeet Trolled)
এই ঘটনায় জিৎকে সরাসরি নিশানা করেছেন অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জিতের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই লেখেন যে, একজন সুপারস্টার এবং চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ভদ্র মানুষ হিসেবে জিতের কাছে আরও একটু সংবেদনশীলতা আশা করেছিলেন তিনি। সুজয়ের মতে, একটি শোকাতুর পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে এভাবে ক্যামেরাবন্দি করা বা সংবাদমাধ্যমকে তা প্রচারের সুযোগ করে দেওয়া একেবারেই অনুচিত কাজ। শুধু সুজয় প্রসাদই নন, সাধারণ নেটিজেনদের একাংশও জিতের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ানোর বদলে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হওয়াটা আসলে আত্মপ্রচারের এক নামান্তর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে এই নিয়ে। কেউ লিখেছেন, ঘরের ভেতর পর্যন্ত ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা কি খুব জরুরি ছিল? আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে, শোকের মুহূর্তে মানবিকতার আড়ালে এই প্রচার চালানো কি জিতের মতো ব্যক্তিত্বকে মানায়? যদিও জিতের অনুগামীদের দাবি, অভিনেতা মুম্বইতে কাজে ব্যস্ত থাকায় ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ মিছিলে যোগ দিতে পারেননি। তাই শহরে ফিরেই তিনি বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছেন। তবে এই সদুদ্দেশ্য সত্ত্বেও ক্যামেরার উপস্থিতি জিতের এই মানবিক উদ্যোগকে বিতর্কের (Jeet Trolled) কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাহুলের মৃত্যু যেখানে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে এক করেছে, সেখানে জিতের এই পদক্ষেপ টলিউডের অন্দরে এবং অনুরাগী মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
