সাধারণত ওজন বৃদ্ধির (Mental Health Affects Obesity) কথা উঠলেই আমাদের মাথায় প্রথমে আসে অস্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং শরীরচর্চার অভাব। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার শরীরের ক্রমবর্ধমান মেদের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর কোনো মানসিক বা আবেগীয় কারণ? সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন যে, জীবনে সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক দূরত্বের থেকেও ওজন বৃদ্ধি পায়। যা কিনা শরীরের হরমোন, ঘুম এবং মানসিক চাপের স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই সূক্ষ্ম কারণগুলিই ধীরে ধীরে মানুষকে স্থূলতার দিকে ঠেলে দেয়। এটি কেবল শারীরিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং তার থেকে পাওয়া মানসিক সমর্থন, শিথিলতা এবং হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে আবেগীয় একাকীত্ব বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এই হরমোনটি শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কর্টিসল হরমোন বাড়লে মানুষের ক্ষুধা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং বিশেষ করে মিষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। এর ফলে পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীর সবসময় ক্লান্ত বোধ করে। যদি আবেগীয় সংযোগের অভাবের কারণে এই মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে ডায়েট করেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে (Mental Health Affects Obesity)।
আরও পড়ুন: এসি ছাড়াই বাড়ি রাখুন ঠান্ডা! প্রচণ্ড গরমে ঘর হিমশীতল রাখার কার্যকরী টিপস
আবেগীয় দূরত্ব এবং মানসিক অস্থিরতা সরাসরি আমাদের ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীর ক্লান্ত থাকে, যার ফলে শারীরিক পরিশ্রম করার ইচ্ছা কমে যায়। একই সঙ্গে বারবার খাওয়ার ইচ্ছে বা ‘বিঞ্জ ইটিং’-এর প্রবণতা দেখা দেয়। মূলত সম্পর্কের গভীরতা এবং মানসিক শান্তি মানুষকে ভালো ঘুমে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
যখন একজন মানুষ নিজেকে মানসিকভাবে একা বা বিচ্ছিন্ন মনে করেন, তখন তাঁর সম্পূর্ণ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। কাজের প্রতি উৎসাহ বা মোটিভেশন কমে যায় এবং শক্তির মাত্রা দ্রুত নিচে নেমে আসে। ফলে মানুষ জিম বা হাঁটার মতো শারীরিক কসরত থেকে দূরে সরে গিয়ে একটি নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন শুরু করে। অনেক সময় মানুষ এই একাকীত্ব ঢাকতে খাবারের মধ্যে আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ইমোশনাল ইটিং’ বলে অভিহিত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে নিয়মিত নিবিড়তা ও ঘনিষ্ঠতা মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এটি মনকে ভালো রাখে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। নিয়মিত আবেগীয় আদান-প্রদান শরীরের হরমোনগুলিকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। তাই সামগ্রিক ফিটনেসের জন্য কেবল ক্যালরি গণনা বা কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়, বরং মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক; তাই যদি মনে অশান্তি থাকে বা সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব থাকে, তবে তার ছাপ শরীরে পড়তে বাধ্য।
আরও পড়ুন: কেন একসঙ্গে তিনটি ফিটনেস ট্র্যাকার হাতে পড়েন মমতা? বিশেষত্ব জানলে চমকে যাবেন!
সুস্থ থাকতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি (Mental Health Affects Obesity)। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে কথা বলে বা কমিউনিকেশন বাড়িয়ে আবেগীয় দূরত্ব কমিয়ে আনুন। এর পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, ওজন বাড়ার কারণ সবসময় শুধু খাবার নয়; অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই যেকোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা বা বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা শ্রেয়।
করোনা মহামারীর সেই ভয়াবহ স্মৃতি কি আবার ফিরছে? বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানুর পুত্র (Kumar…
আজ সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬। জুলাই মাসের শুরুতে দ্বাদশ রাশির (Daily Horoscope) জাতক-জাতিকদের মানসিক চেতনা,…
সংসারে শান্তি, সমৃদ্ধি বজায় রাখতে বাস্তু শাস্ত্রে (Vastu Tips) বহু নীতি রয়েছে। যেগুলি মেনে চললে…
আজ রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬। জুলাইয়ের দ্বিতীয় (Rashifal Bangla) সপ্তাহের ছুটির দিনে গ্রহরাজদের দ্বাদশ রাশির…
স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য দারুণ সুখবর নিয়ে এল জনপ্রিয় টেক ব্র্যান্ড ভিভো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
ভারতের জনপ্রিয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মহিন্দ্রা ও মহিন্দ্রা (Mahindra & Mahindra) তাদের এসইউভি (SUV) মডেলের…