LPG Cylinders: বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে। কী শুনতে অবাক লাগছে? প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে অন্তত এমনটাই দাবি করল ইন্ডিয়াল অয়েল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি চাহিদার মধ্যে ডোমেস্টিক রান্নার গ্যাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংস্থা বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৮ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা শুরুর আগে স্বাভাবিক পরিস্থিতির মতোই সরবরাহ জারি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল স্পষ্ট জানায়, দেশে রান্নার গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েলের বার্তা (LPG Cylinders)
গ্রাহকদের সুবিধার্থে ইন্ডিয়ান অয়েল ডিজিটাল মাধ্যমে বুকিং করার ওপর জোর দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮৭ শতাংশ বুকিং এসএমএস এবং আইভিআরএস-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সঠিক গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দিতে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ওটিপি (DAC OTP) ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে তাঁরা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া বা নির্দিষ্ট ইমেল আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থা।
আরও পড়ুন: বাঙালির ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদে উত্তাল ধর্মতলা, বাংলা পক্ষের অবস্থান বিক্ষোভ
এদিকে সাধারণ মানুষের এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়ে কিছু অসাধু ডিস্ট্রিবিউটরের দুর্নীতির খবরও সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইন্ডিয়ান অয়েল জানতে পেরেছে যে, কিছু ডিস্ট্রিবিউটর (LPG Cylinders) কালোবাজারি এবং অবৈধ মজুতদারির সঙ্গে যুক্ত। এই অসাধু চক্র রুখতে সংস্থা দেশজুড়ে একাধিক বিশেষ তদন্তকারী দল মোতায়েন করেছে। ইতিমধ্যেই ৭,৫০০-এর বেশি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১৪১ জন ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অনিয়মের দায়ে ৫ জন ডিস্ট্রিবিউটরকে সাসপেন্ড করা হয় বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল।
কালোবাজারি রুখতে ইন্ডিয়ান অয়েল এবং অন্যান্য তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। সারা দেশে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৮,০০০ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। অভিযানে ৮৫৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ৪৮,০০০-এর বেশি অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ও তেল সংস্থাগুলি এটি নিশ্চিত করতে চাইছে যে, প্রকৃত গ্রাহকরা যেন সঠিক দামে এবং সময়ে তাঁদের সিলিন্ডার হাতে পান। মজুতদারি রুখতে এই অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল সমস্ত ‘ইন্ডেন’ (Indane) গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজারে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে, তাই অযথা ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে ভিড় জমানোর বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করার দরকার নেই।” গ্রাহকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। শুধুমাত্র সরকারি বা আধিকারিক সূত্রের তথ্যের ওপর ভরসা করতে বলা হয়েছে। রান্নার গ্যাসের স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করতে ইন্ডিয়ান অয়েল (LPG Cylinders) পূর্ণ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে চলেছে।
