আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর তরুণী চিকিৎসকের দেহ জোর করে সৎকার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে আগেই উঠেছিল। সেই অভিযোগেই আজ গ্রেফতার (ex-tmc MLA Nirmal Ghosh arrested) হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানায় নিহত চিকিৎসক-ছাত্রীর বাবার দায়ের করা নতুন এফআইআর-এর সূত্র ধরে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার পুরী লাগোয়া একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে।
গ্রেফতার হলেন নির্মল ঘোষ | ex-tmc MLA Nirmal Ghosh arrested
তদন্তকারী আধিকারিকদের চোখ ফাঁকি দিতে ওড়িশায় আত্মগোপন করে নতুন একটি সিমকার্ডের সাহায্যে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সাথে সম্পর্ক রাখছিলেন নির্মল ঘোষ (ex-tmc MLA Nirmal Ghosh arrested)। গত মঙ্গলবার ফোনের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ পুরীর কাছে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার পর শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হতে পারে। এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “এই আইনি পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।”
আরও পড়ুন: অভিষেকের বিদেশযাত্রায় সিলমোহর শীর্ষ আদালতের, খারিজ হাইকোর্টের নির্দেশ
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে। সে দিন পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে তৎকালীন ঘটনার তদন্তে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই সোমবার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানান নিহতের বাবা। অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট ময়নাতদন্তের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে তড়িঘড়ি নাটাগড় কদমতলা শ্মশানঘাটে দেহ সৎকারের জন্য পরিবারকে বাধ্য করা হয়েছিল। স্বজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময়টুকুও পাননি।
রবিবার শ্মশানের ঘটনার অনিয়ম তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় একযোগে সম্পূর্ণ বিষয়টি ঘটিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ তোলেন, শ্মশানের নিয়মে দেহটি তিন নম্বরে থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাঁটিয়ে আগে সৎকার করা হয় এবং নির্ধারিত খরচও মকুব করে দেওয়া হয়। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের প্রশ্ন, এই তিনজন কী স্বার্থে সৎকার কার্য ত্বরান্বিত করতে এত তৎপর হয়ে উঠেছিলেন?
প্রসঙ্গত, পানিহাটি থেকে ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে পরপর তিনবার জয়ী হওয়া নির্মল ঘোষ (ex-tmc MLA Nirmal Ghosh arrested) এলাকায় ‘নান্টু’ নামে পরিচিত। তাঁর ও তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্র প্রদর্শন ও লটারি হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ১৩ জুলাই দক্ষিণেশ্বর থেকে গ্রেফতার হন তীর্থঙ্কর। বিগত নির্বাচনে পানিহাটি আসনে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের (বিজেপি প্রার্থী) কাছে পরাজিত হন তিনি। বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ওড়িশা থেকে ওড়িশা পুলিশের সাহায্যে গ্রেফতার হলেন এই প্রভাবশালী প্রাক্তন রাজনীতিক।
