ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত ও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকার। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক দিনেশ ত্রিবেদীকে (Former Union Minister Dinesh Trivedi) বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য, প্রণয় বর্মাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হলেন দিনেশ ত্রিবেদী (Former Union Minister Dinesh Trivedi)
দিনেশ ত্রিবেদীর (Former Union Minister Dinesh Trivedi) এই নিয়োগ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হচ্ছে, যখন প্রতিবেশী দুই দেশ তাঁদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক স্তরে বরফ গলতে শুরু করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্যান কার্ডের নিয়মে বড় বদল, এখন আবেদন করতে হলে কোন ফর্ম ভরবেন?
রেলমন্ত্রিত্বও সামলেছেন
যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন, সেই দিনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মনমোহন সিং সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। পরে ২০২১ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন। টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী দিনেশ ত্রিবেদী একাধারে একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং অতীতে তাঁর নিজস্ব এয়ার কার্গো ব্যবসাও ছিল।
বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এই প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। সেই সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করেন। তাঁদের আলোচনায় বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সাথেও তাঁর বৈঠক হয়, যেখানে জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনেশ ত্রিবেদীর (Former Union Minister Dinesh Trivedi) মতো একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিককে বাংলাদেশে পাঠানো ভারতের এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। প্রতিবেশী দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় তাঁর নতুন কর্মভার গ্রহণ করবেন।
