সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ (Operation Sindoor 2) এবং ভারত বিরোধী উস্কানি জারি রেখেছে পাকিস্তান। তাই প্রতিবেশি রাষ্ট্রকে আবারও এক চরম এবং নজিরবিহীন শিক্ষা দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি ইসলামাবাদকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, নাশকতামূলক আচরণে লাগাম না টানলে পাকিস্তানকে এর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এবার সেই সুর আরও চড়া করে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে প্রত্যাঘাতের রণকৌশল নিয়ে বড় বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং শত্রুদেশকে গুঁড়িয়ে দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুর ২.০-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত (Operation Sindoor 2)
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সাথে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “অপারেশন সিঁদুর এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, এটি এখনো সচল রয়েছে।” তবে সীমান্ত অঞ্চলের বর্তমান থমথমে অবস্থাকে তিনি ‘শত্রুতার সাময়িক অবসান’ বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি হিসেবেই দেখছেন। নিজের বক্তব্যে সরাসরি পাকিস্তানের নাম উচ্চারণ না করলেও তাঁর নিশানায় যে ইসলামাবাদ ছিল, তা বলাই বাহুল্য।
সেনাপ্রধান আরও যোগ করেন, “ভারতীয় সেনার তিনটি শাখাতেই (স্থল, জল ও বায়ুসেনা) এখন ‘অপারেশন ২.০’-র (Operation Sindoor 2) জোরদার প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমরা আমাদের তিন বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় ও শক্তিকে আরও জোরদার করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি এবং পরবর্তী যেকোনো সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা লড়াইয়ের জন্য আমাদের জওয়ানেরা ২৪ ঘণ্টাই হাই-অ্যালার্টে রয়েছেন।” আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান রণক্ষেত্র এতটাই উন্নত ও স্বচ্ছ যে প্রতিটি সামরিক গতিবিধি অপরপক্ষের কাছে দৃশ্যমান। তাই ভারতীয় সেনা মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহার এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পেট্রল-ডিজেলের পর এবার সিএনজি! এক সপ্তাহে বাড়ল ১১ টাকা
সেনাপ্রধানের এই নতুন হুঁশিয়ারির নেপথ্যে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী প্রেক্ষাপট। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন ‘টিআরএফ’-এর চার জঙ্গি। এই কাপুরুষোচিত হামলার যোগ্য জবাব দিতে গত ৭ মে ভোর-রাতে ভারতীয় সেনা অত্যন্ত গোপনে ও নিখুঁত পরিকল্পনায় শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সক্রিয় থাকা অন্তত ৯টি প্রধান জঙ্গিঘাঁটি বোমাবর্ষণে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বাহিনী। ভারতের এই আকস্মিক প্রত্যাঘাতে থতমত খেয়ে পাল্টা চাল হিসেবে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান।
কিন্তু ভারতীয় সেনার অতন্দ্র প্রহরায় পাকিস্তানের সেই অপচেষ্টা শুধু প্রতিহতই হয়নি, বরং ভারত এমন বিধ্বংসী পাল্ট মার দেয় যে তাতে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বিমানঘাঁটি তছনছ হয়ে যায়। ভারতের চালানো এই ৮৮ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী অভিযানে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি ও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন পাক সেনা খতম হয়। ভারতের এই চরম রুদ্ররূপ দেখে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়ে ইসলামাবাদের তরফ থেকে নয়াদিল্লির কাছে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানানো হয়, যাতে ভারত সাড়া দেয়। তবে সেনাপ্রধান আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত সাময়িকভাবে শান্ত হলেও তাদের প্রস্তুতি থামেনি (Operation Sindoor 2)। পাকিস্তান যদি পুনরায় ভারতকে উস্কানি দেওয়ার বা কোনো হামলার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে আগামী দিনে তার ফল যে কতটা মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হতে চলেছে, তা মনে করিয়ে দিতেই এই কড়া বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান।

