মধ্যবিত্তের পকেটে টান ধরিয়ে দেশজুড়ে আবারও এক ধাক্কায় (Petrol-Deisel Price Hike) বেশ খানিকটা বেড়ে গেল পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। বিগত মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এবং সব মিলিয়ে গত ৯ দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল। গত মঙ্গলবারই শহর কলকাতায় জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই শনিবার সকালে দেশজুড়ে নতুন করে কার্যকর হল পেট্রল-ডিজেলের বর্ধিত দর। স্বভাবতই শনিবারে এই জোড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।
দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Deisel Price Hike)
শনিবার সকাল থেকেই দেশের প্রতিটি বড় শহরে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে, তবে অঞ্চলভেদে এই বৃদ্ধির হারে কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাজধানী দিল্লি, চেন্নাই কিংবা বাণিজ্যিক নগরী মুম্বইয়ের পাশাপাশি দাম বাড়ার এই তালিকায় নাম রয়েছে তিলোত্তমা কলকাতারও। কলকাতায় এবার প্রতি লিটার পেট্রলের দাম এক লপ্তে ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, লিটার প্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৫ পয়সা। এই নয়া মূল্যবৃদ্ধির পর কলকাতায় এখন এক লিটার পেট্রল কিনতে সাধারণ মানুষকে গুনতে হবে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা। পাশাপাশি সমপরিমাণ অর্থাৎ ১ লিটার ডিজেলের নতুন দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ টাকা ০২ পয়সায় (Petrol-Deisel Price Hike)। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা ১২ ঘণ্টা বন্ধ ওষুধের দোকান, দেশজুড়ে ধর্মঘটের মাঝে কোথায় মিলবে ওষুধ?
কলকাতার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলির পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দিল্লিতে লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৮৭ পয়সা এবং ৯১ পয়সা করে বেড়েছে। দক্ষিণের শহর চেন্নাইয়ে এই বৃদ্ধির পরিমাণ পেট্রলে ৮২ পয়সা এবং ডিজেলে ৮৭ পয়সা। দেশের মধ্যে মুম্বইয়ে জ্বালানির দাম বরাবরই কিছুটা বেশি থাকে, সেখানেও আজ নতুন করে পেট্রলের দাম ৯০ পয়সা এবং ডিজেলের দর লিটার প্রতি ৯৪ পয়সা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, গত ১৫ মে থেকে আজ ২৩ মে – অর্থাৎ মাত্র ৯ দিনের এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে প্রতি লিটার পেট্রল এবং ডিজেলের দাম সব মিলিয়ে প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির (Petrol-Deisel Price Hike) সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহণ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে ডিজেলের দাম যেভাবে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, তাতে চরম বিপাকে পড়েছেন বাস মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে লিখিত চিঠি পাঠাতে শুরু করেছে বাসচালকদের বিভিন্ন সংগঠন। পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের বক্তব্য, যেভাবে প্রতিনিয়ত ডিজেলের দাম বাড়ছে, তাতে পুরনো ভাড়ায় বাস চালানো আর কোনওভাবেই লাভজনক বা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে যাতায়াত খরচ—সব ক্ষেত্রেই আমজনতার ওপর মূল্যবৃদ্ধির যে পাহাড়প্রমাণ বোঝা চেপে বসছে, তা থেকে অদূর ভবিষ্যতে আদৌ কোনও নিস্তার মিলবে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।
