টিনসেল টাউনের রূপোলি পর্দায় একসময় তাঁর পরিচয় ছিল ‘লাস্যময়ী সমীরা’ (Sameera Reddy) হিসেবে। আজ ৪৬ বছর বয়সে এসে তিনি সম্পূর্ণ অন্য এক মানুষ। ইনস্টাগ্রাম বায়োতে নিজের পরিচয় দিয়েছেন ‘মেসি মামা’ হিসেবে। পাকা চুল প্রকাশ্যে আনা হোক কিংবা প্রসব পরবর্তী ওজন বৃদ্ধি – কোনো কিছু লুকানোর বিপক্ষে তিনি। গ্ল্যামারের চাকচিক্য ছেড়ে সমীরা রেড্ডি এখন এক ‘আসল’ নারী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জানান যে, তিনি আর সেই পুরনো গ্ল্যামারাস দিনগুলিতে ফিরে যেতে চান না। সমীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আর সেই ‘লাস্যময়ী সমীরা’র যুগে ফিরে যেতে চাই না। আমি একদমই চাই না”।
গত কয়েক বছরে নিজেকে আমূল বদলেছেন সমীরা (Sameera Reddy)
বলিউডের মতো একটি পেশায়, যেখানে শারীরিক সৌন্দর্যই একজন অভিনেত্রীর প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে সমীরা রেড্ডি এক বিরল ব্যতিক্রম। তিনি নারীদেহের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবর্তন নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। গত কয়েক বছরে নিজেকে আমূল বদলে ফেলার পর তিনি কি সেই ‘লাস্যময়ী’ তকমাটি মিস করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সমীরা বলেন, “আমি কিছুই মিস করি না। এই ধরণের তকমাগুলির সঙ্গে অনেক মানসিক চাপ এবং আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় ওই জীবনটা আমাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল, কারণ আমি সেই উচ্চমানের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিলাম না”। তবে তিনি এও যোগ করেন যে, যদি শিল্পের খাতিরে বা কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে তেমন কিছুর দাবি থাকে, তবে তিনি তা ভেবে দেখবেন। তাঁর মতে, গত ১০-১৫ বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং এখন নির্দিষ্ট শারীরিক গঠনের চেয়ে প্রতিভাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মহুয়ার মৃত্যু আজও রহস্য! উদঘাটন হতে চলেছে বড় পর্দায়?
নিজের বর্তমান পরিচয় নিয়ে সমীরা অত্যন্ত গর্বিত (Sameera Reddy)। তিনি মনে করেন এখন যখন মানুষ তাঁকে দেখে ‘বাস্তববাদী’ বা ‘আসল’ বলে সম্বোধন করেন, সেটাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি আর ওই তকমাটা ফেরত চাই না। লোকে যখন এখন আমাকে দেখে বলে যে আমি খুব বাস্তবধর্মী, তখন আমি সবথেকে বেশি গর্ব বোধ করি”। নিজের নতুন ছবি ‘আখরি সওয়াল’ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানান, সেখানে তিনি একজন অধ্যাপিকার চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং চরিত্রটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত হওয়ার কারণেই তিনি এতে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।
সমীরা রেড্ডির বর্তমান জীবনের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া এবং শাশুড়ি মঞ্জরী ভার্ডের সঙ্গে মজার সব রিল ভিডিও। ‘সাসি শাশুড়ি’ এবং ‘মেসি মামা’-র এই রসায়ন নেটদুনিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। শাশুড়ির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সমীরা বলেন, “শুরুতে তাঁকে রাজি করাতে হয়েছিল আমায়। কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে মানুষ তাঁকে ভালোবাসছেন এবং গ্রহণ করছেন, তখন তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে শুরু করেন। এখন তিনি সব সময় ইনস্টাগ্রাম গেমের জন্য প্রস্তুত”।
View this post on Instagram
ব্যক্তিগত জীবনে সমীরা (Sameera Reddy) একজন স্ত্রী এবং পুত্রবধূ হিসেবে নিজেকে ‘সৎ, আনন্দপ্রিয় এবং সর্বসমকক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পরিবারে সবথেকে বড় সমালোচক কে, জানতে চাইলে তিনি হেসে উত্তর দেন, “সেটা আমার স্বামী”। ২০১৪ সালে অক্ষয় ভার্ডের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সমীরা এখন দুই সন্তানের জননী – ছেলে হ্যান্স এবং মেয়ে নায়রা। ওজন প্রশিক্ষণ, যোগব্যায়াম এবং বিশ্বাসের ওপর ভর করে সমীরা আজ যে জীবন অতিবাহিত করছেন, তা কেবল বিশ্বকে দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য।
