বীরভূম জেলার রামপুরহাটে নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে রবিবার উদ্ধার হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও (Ashish Banerjee Suicide Note) উদ্ধার করা হয়েছে।
সুইসাইড নোটে কী লিখে গেলেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার? (Ashish Banerjee Suicide Note)
মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আমি কখনোই কোনো দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না; রাজনীতিতে আসাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।” চিরকুটে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবারের উদ্দেশ্যে লেখেন, “আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি।” সুইসাইড নোটের শেষে তিনি লেখেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।”
আরও পড়ুন: প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? আরজি কর কাণ্ডে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ
সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Ashish Banerjee Suicide Note) তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়ম ও ভুলকাজের কথাও স্পষ্ট করেছেন। দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে তিনি লেখেন, “আমি দলের ভেতরে হওয়া বহু ভুল কাজ মানতে পারছিলাম না, কিন্তু সেগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।” পাশাপাশি তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “টেন্ডার, চেক বিতরণ, প্ল্যান অনুমোদন কিংবা অনাপত্তি শংসাপত্র সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমি কেবল পর্ষদের সাধারণ সভায় যোগ দিতাম, টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলাম না।” নোটে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আমাকে পরিকল্পিতভাবে অপমান করার এবং আমার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম বলেন, “আশিসদা ছিলেন বীরভূমের সবচেয়ে সৎ এবং অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই রাজনীতিতে এসেছিলেন। সুইসাইড নোট অনুযায়ী মনে হচ্ছে, বিরোধী দলগুলি হয়ত অন্যায়ভাবে তাঁর নাম কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত করেছিল।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “এই ঘটনা কেবল বীরভূমের নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের (Ashish Banerjee Suicide Note) ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি পাঁচবারের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং একজন প্রাক্তন অধ্যাপক ছিলেন।” পুলিশ আধিকারিকরা জানান, “আমরা রামপুরহাটের পার্টি অফিস থেকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবারের নির্বাচিত বিধায়ক ছিলেন। মন্ত্রী পদে থাকাকালীন তিনি আয়ুষ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং পেশায় তিনি রামপুরহাট কলেজের একজন অধ্যাপক ছিলেন। গত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর গত জুন মাসে তিনি তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলীয় কর্মী ও অনুগামীরা রামপুরহাটে তাঁর বাসভবন এবং পার্টি অফিসের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
