মঙ্গলবার রাত থেকে দেশজুড়ে ওষুধের দোকানে (Medicine Shop Strike) তালা ঝুলতে চলেছে। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট বা এআইওসিডি (AIOCD) নামক সর্বভারতীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে জীবনদায়ী ওষুধের দোকান বন্ধের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারে বয়স্ক বা শিশু থাকলে, আচমকা জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ কোথায় মিলবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে আমজনতা।
ওষুধের দোকান ১২ ঘণ্টা বন্ধ (Medicine Shop Strike)
তবে দেশজুড়ে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও রোগীদের পুরোপুরি বিপাকে পড়তে হবে না। কারণ, বেশ কিছু জরুরি ক্ষেত্রকে এই ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন হাসপাতালের ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, দাভা ইন্ডিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্রগুলি এই ধর্মঘটের (Medicine Shop Strike) দিনও সম্পূর্ণ খোলা থাকবে। ফলে জরুরি বা জীবনদায়ী ওষুধের জন্য সাধারণ মানুষ এই সমস্ত সরকারি ও অনুমোদিত বিপণিগুলিতে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: জরুরি অবস্থা ঘোষণা হু-র, ইবোলার ভয় এবার ভারতেও? তৎপর স্বাস্থ্যমন্ত্রক
ওষুধ ব্যবসায়ীদের এই আকস্মিক প্রতিবাদের মূল কারণ হল ই-ফার্মাসি বা অনলাইন ওষুধ বিপণিগুলির দৌরাত্ম্য। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “অনলাইন ফার্মাসিগুলি ওষুধের বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করে যথেচ্ছ ছাড় দিচ্ছে। অথচ এই ই-ফার্মাসিগুলির ওপর সরকারের কোনও কড়া নিয়ন্ত্রণ নেই।” এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই তাঁরা ন্যাশনাল ড্রাগ রেগুলেটরের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং এই ১২ ঘণ্টার প্রতীকী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
All pharmacy chains and hospital pharmacy stores, Jan Aushadhi stores, AMRIT Pharmacy stores will remain open tomorrow, in addition to the many state and chemist associations who have already pulled out from the strike: Sources
— ANI (@ANI) May 19, 2026
যদিও এই আন্দোলনের জেরে জীবনদায়ী ওষুধের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের চরম সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে বাংলার মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর রয়েছে। এএনআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খুচরো ওষুধ বিক্রেতা সংগঠন এই ধর্মঘট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বস্তির বিষয়, এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নামও রয়েছে। অর্থাৎ, ভিন রাজ্যে ওষুধের দোকান বন্ধ (Medicine Shop Strike) থাকলেও, আমাদের রাজ্যে ওষুধের দোকানগুলি স্বাভাবিক রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন স্থানীয় বিক্রেতারা, যা বাংলার রোগীদের বড়সড় ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
