মহারাষ্ট্রে ক্রমশ শিক্ষা বাজেট সংকোচন এবং একে একে মারাঠি মাধ্যম স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (Supreme Court judge) প্রসন্ন বি ভারালে (Justice Prasanna B Varale)। ধুলে জেলার একটি হাইস্কুলে ‘স্মার্ট ক্লাস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নসিকের কুম্ভমেলার পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তার মাত্র এক সামান্য অংশ বরাদ্দ করলেই রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০০ থেকে ১২৫টি মারাঠি মাধ্যম স্কুলকে অনায়াসে বাঁচানো যেত।
আরও পড়ুন: মেঘভাঙা বর্ষণে থমকে গেল রাজধানী! এক ধাক্কায় ১৪টি ফ্লাইটের রুট বদল
বিচারপতির বক্তব্য (Supreme Court judge)
বাজেট বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে বিচারপতি (Supreme Court judge) জানান, কুম্ভমেলার মতো ধর্মীয় আয়োজনের জন্য সরকার প্রায় ৩২,০০০ কোটি থেকে ৩৪,০০০ কোটি টাকা এবং করিডোর প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে থাকে। এই বিপুল অঙ্কের মাত্র ০.১ শতাংশ— অর্থাৎ আনুমানিক ৩২ কোটি টাকা যদি প্রাথমিক শিক্ষার পেছনে খরচ করা হতো, তবে রাজ্যজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২৫টি মারাঠি স্কুলকে সচল রাখা সম্ভব হতো। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “আমি নিজে মিউনিসিপ্যালিটি এবং জেলা পরিষদের মারাঠি মাধ্যম স্কুলেই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষা অর্জন করা কখনোই আমার ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং এটি আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও প্রসারিত করেছে।”
View this post on Instagram
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, দিন দিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধির বদলে ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে। বছরের পর বছর ধরে তা মোট বাজেটের ১৩ শতাংশের কোঠাও ছুঁতে পারছে না। গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি (Supreme Court judge) একটি ধর্মীয় ট্রাস্ট পরিচালিত স্কুলের মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পর্যাপ্ত আবাসন ও পরিকাঠামোর অভাবে মাটিতে ঘুমোতে বাধ্য হওয়া ৩ জন ছাত্রী সাপের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। গ্রামীণ শিক্ষার এই করুণ দশাকে উপেক্ষা করে সরকার কীভাবে নসিক-ত্রিম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলা এবং বিভিন্ন করিডোর প্রজেক্টে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
