সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর একাংশ। তার ঠিক একদিন বাদে জনজীবন স্বাভাবিক করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের বিভিন্ন বিভাগে ন্যূনতম মজুরি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম মঙ্গলবার জানিয়েছেন, একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে এবং এটি গত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বাড়াল উত্তরপ্রদেশ সরকার (UP govt hikes daily wages)
উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ সোমবার নয়ডায় হাজার হাজার কারখানা শ্রমিক উচ্চতর মজুরি এবং উন্নত কাজের পরিবেশের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যা অল্প সময়েই হিংসাত্মক রূপ নেয়। তার জেরে জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে যান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। এরপরই সোমবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে এই মজুরি বৃদ্ধির (UP govt hikes daily wages) সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। জেলাশাসক রূপম সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে একটি মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও বিশদ পর্যালোচনা করা হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১১,৩১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৬৯০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে আধা-দক্ষ শ্রমিকরা এখন থেকে পাবেন ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬,৮৬৮ টাকা। রাজ্যের অন্যান্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকাগুলিতে অদক্ষ, আধা-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের মাসিক বেতন ধার্য করা হয়েছে যথাক্রমে ১৩,০০৬ টাকা, ১৪,৩০৬ টাকা এবং ১৬,০২৫ টাকা। এছাড়া বাকি জেলাগুলির ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিকরা ১২,৩৫৬ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকরা ১৩,৫৯১ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ১৫,২২৪ টাকা করে মাসিক বেতন পাবেন।
আরও পড়ুন: CBSE Class 10th result 2026: মাধ্যমিকের রেজাল্ট প্রকাশ হচ্ছে কবে? জানাল সিবিএসই বোর্ড
সরকারি আধিকারিক সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিয়োগকর্তাদের সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষের আপত্তি ও পরামর্শ খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সোমবারের সেই উত্তাল বিক্ষোভের পর সরকার তড়িঘড়ি একটি কমিটি গঠন করেছিল যাতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানো যায়। মূলত সেই কমিটির তৎপরতাতেই চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগে উত্তরপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের মুখে হাসির ঝলক দেখা গেল। সরকারের এই পদক্ষেপ (UP govt hikes daily wages) শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

