তথ্য ও ছবি: কলকাতা পুলিশ এক্স হ্যান্ডেল
ফেসবুক বিজ্ঞাপনের ফাঁদে (Advertisement Scam) পড়ে সর্বস্বান্ত হলেন গড়ফার এক প্রবীণ বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। সারাজীবন ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকেও শেষ পর্যন্ত সাইবার জালিয়াতদের পাতা নিপুণ খপ্পর থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ফেসবুকে দেখা একটি তথাকথিত পেনশন কার্ডের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন থেকে।
সেই বিজ্ঞাপনে কৌতূহলবশত ক্লিক করতেই তাঁর কাছে একটি নামী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে। প্রতারকরা তাঁকে জানায় যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও ম্যানেজারদের জন্য বিশেষ একটি পেনশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডটি পেতে হলে তাঁকে বিদঘুটে নামের একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয় (Advertisement Scam)। প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সেই অ্যাপটি নিজের স্মার্টফোনে ইনস্টল করতেই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়। আসলে ওই অ্যাপটি ছিল একটি ক্ষতিকারক এপিকে (APK) ফাইল, যা ডাউনলোড করার সাথে সাথেই ফোনের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ জালিয়াতদের হাতে চলে যায়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সাইবার ক্রাইম শাখা। তদন্তকারীরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিরলস প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালান এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের হদিস পায়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ সায়ন রাজবংশী, অরিন্দম দাস, শৌভিক ব্যাপারী এবং অর্পণ দাসকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মূল কাজ ছিল সাইবার অপরাধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সিম কার্ডের ব্যবস্থা করা।
আরও পড়ুন: ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যেতে পারে, আপনার রাশির পূর্বাভাস কী, দেখুন
তদন্ত আরও এগোলে এই একই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এন্টালি এলাকা থেকে দিলদার আনসারি এবং অনীশ সরকারকেও জালে তোলে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে এই চক্রটি মূলত ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত একটি বড় মাপের আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ধৃতদের কাছ থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন এবং ১০টি সচল সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্কের নথি, এটিএম কার্ড, চেকবই এবং প্রায় ৮ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তল্লাশিতে সোনার গয়না, দামী ঘড়ি এবং একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছেন।
এই ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা (Advertisement Scam) বা অজানা অ্যাপ ডাউনলোড করার বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে ওত পেতে থাকা প্রতারকদের থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের মূল হোতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। পুরো চক্রটিকে সমূলে বিনাশ না করা পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ অভিযান জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। নাওয়া-খাওয়া ফেলে জোরকদমে চলছে ভোটপ্রচার। রাজ্যের সমস্ত পার্টির ক্ষেত্রে চিত্রটি প্রায়…
চৈত্র সংক্রান্তির (WB Weather Update April) শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যখন চূড়ান্ত অস্বস্তিকর হয়ে…
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…
ভারতের মোটরসাইকেল বাজারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বাজাজ অটো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ বাইক ডোমিনার ৪০০-এর একটি…
ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated…