সনাতন ঐতিহ্যে রামভক্ত হনুমানজির পূজা (2026 Hanuman Jayanti) ভক্তিভরে পালন করা হয়। সমস্ত সংকট দূর করে সুখ, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্য নিয়ে আসে বলেই বিশ্বাস ভক্তদের। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের পূর্ণিমা অর্থাৎ হনুমান জয়ন্তীর দিনে হনুমত সাধনা অতি শুভ ও ফলদায়ী। এই কারণেই ভক্তরা সারা বছর ধরে এই বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। আপনিও যদি হনুমান জন্মোৎসবে সংকটমোচনকে প্রসন্ন করে মনস্কামনা পূরণ করতে চান, তবে তাঁর পূজার সঙ্গে যুক্ত ১০টি নিয়ম অবশ্যই জেনে নিন। এই নিয়মগুলি ছাড়া পূজার পূর্ণ পুণ্যফল লাভ করা সম্ভব হয় না।
হনুমান জয়ন্তীতে (2026 Hanuman Jayanti) পূজার নিয়মাবলী –
১. হিন্দু ধর্মমতে হনুমানজির পূজায় (2026 Hanuman Jayanti) শরীর ও মনের পবিত্রতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বজরংবলীর উপাসনা করার সময় সাধককে শুদ্ধতা ও শুচিতার বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। প্রাতঃকালে স্নান সেরে ভক্তিভরে পূজার সংকল্প নেওয়া জরুরি।
২. হনুমানজির পূজায় সম্ভব হলে লাল রঙের বস্ত্র পরিধান করা উচিত। এছাড়া বজরংবলীর পূজার জন্য লাল রঙের উলের আসন ব্যবহার করা সবথেকে শ্রেয়। মনে রাখবেন, আজকের দিনে ভুল করেও কালো রঙের পোশাক পরা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: হনুমান জয়ন্তী কি মহিলাদের পালন করা দোষের? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র
৩. অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে কোন সময়ে পূজা করলে সবথেকে বেশি ফল পাওয়া যায়। এর উত্তর হলো, সবসময় শুভ মুহূর্তে হনুমানজির পূজা করার চেষ্টা করুন। এছাড়া প্রতিদিন সকাল অথবা সন্ধ্যায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিষ্ঠার সাথে বজরংবলীর আরাধনা করা উচিত।
৪. হনুমানজির পূজার সময় তাঁর পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমানজির চরণে সবসময় লাল রঙের তাজা ফুল অথবা লাল ফুলের মালা অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়।
৫. হনুমান জয়ন্তীর পূজা এবং ব্রত পালনকারী ব্যক্তিকে সারাদিন নিয়ম-সংযম এবং ব্রহ্মচর্য পালন করতে হবে। নিজের মনে অন্য কারোর প্রতি কোনো ভুল ভাবনা বা কটু চিন্তা আনা যাবে না।
৬. হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমান জয়ন্তীর পূজায় সাধককে বিশেষ করে সিঁদুর ও চামেলি তেল অর্পণ করতে হবে। যেহেতু বজরংবলীর পূজায় দীপদানের বিশেষ গুরুত্ব আছে, তাই আজ শুদ্ধ ঘি অথবা চামেলি তেলের প্রদীপে লাল সুতোর সলতে দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো উচিত।
৭. হনুমানজির আরাধনায় হনুমান চালিশা, বজরং বাণ এবং সুন্দরকাণ্ড পাঠের অসীম গুরুত্ব রয়েছে। তাই আজ নিজের সুবিধা এবং ভক্তি অনুসারে এর মধ্যে যেকোনো একটি পাঠ অবশ্যই সম্পন্ন করুন।
৮. শ্রীরামচন্দ্র, মাতা জানকী এবং লক্ষ্মণজির পূজা ছাড়া হনুমানজির উপাসনা অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই আজ বজরংবলীর সাথে রামদরবারের পূজা করতে ভুলবেন না।
আরও পড়ুন: বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা’, কতটা বিপজ্জনক?
৯. হনুমানজির পূজা করার সময় মহিলাদের মূর্তিকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে আজ সাধককে ভুল করেও কোনো তামসিক জিনিস যেমন – মাংস, মদিরা বা নেশাদ্রব্য সেবন করা চলবে না।
১০. হিন্দু শাস্ত্র মতে, যেকোনো দেব-দেবীর পূজার শেষে আরতি করলে পূজার সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি বা খামতি দূর হয়ে যায়। তাই আজ হনুমানজির পূজার (2026 Hanuman Jayanti) পূর্ণ ফল পেতে শেষে ভক্তিভরে বজরংবলীর আরতি অবশ্যই সম্পন্ন করুন।
বিঃ দ্রঃ – এই প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ইন্ডাসপ্রেস এটি যাচাই করেনি।
