আজকের ব্যস্ত জীবনে নিজেকে ফিট রাখতে বা মানসিক চাপ কমাতে অনেকেই যোগাভ্যাসের (Yoga) দিকে ঝুঁকছেন। কেউ শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে আবার কেউ দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত যোগসন করেন। তবে অনেক সময় দেখা যায় মাসের পর মাস অনুশীলন করার পরেও আশানুরূপ ফল মিলছে না। আসলে সমস্যাটি যোগব্যায়ামের নয় বরং এটি করার পদ্ধতির। যোগ কেবল কিছু শারীরিক কসরত নয়। এটি শরীর, মন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের এক অপূর্ব সমন্বয়, যা আমাদের ভেতর থেকে সুস্থ করে তোলে। সঠিক পদ্ধতি না জানলে বা ভুল ধারণা নিয়ে শুরু করলে এই সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যোগ শুরু করার আগে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে ফেলা জরুরি।
অনেকের ধারণা যোগ মানেই হাত-পা বাঁকিয়ে কিছু কঠিন শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শন করা। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়। যোগ হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং একাগ্রতার গুরুত্ব সর্বাধিক। আপনি যদি কেবল ব্যায়াম হিসেবে এটি করেন তবে মনের সাথে শরীরের সংযোগ তৈরি হবে না। এতে হিতে বিপরীত হয়ে শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। প্রতিটি আসন অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং ধীরলয়ে শ্বাসের ছন্দের সাথে মিলিয়ে করাই হল যোগের আসল রহস্য। কেবল শরীরচর্চা নয় বরং প্রতিটি ভঙ্গির সাথে মনের গভীর মিলন ঘটানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
অনেকে মনে করেন যোগ (Yoga) মানেই শুধু স্ট্রেচিং। তাঁদের ধারণা এতে পেশির শক্তি বাড়ে না। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল কারণ যোগর মাধ্যমে শরীরের ভারসাম্য এবং স্থায়িত্ব দুই-ই বৃদ্ধি পায়। সূর্য নমস্কার বা চেয়ার পোজের মতো আসনগুলি নিয়মিত করলে বোঝা যায় এটি কতটা শক্তি নির্ভর। পেশির গঠন মজবুত করতে এবং হাড়ের জয়েন্টগুলিকে সচল রাখতে যোগাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই একে কেবল হালকা ব্যায়াম ভেবে অবহেলা করা ঠিক হবে না। এটি শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী এবং নমনীয় করে তোলে।
আরও পড়ুন: শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য শোয়ার ঘরের ৫টি জরুরি বাস্তু নিয়ম: ভুল হলেই বিপদ!
যোগের ফল পেতে অনেক দেরি হয় ভেবে অনেকেই মাঝপথে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। আসলে যোগের সুফল দুটি স্তরে পাওয়া যায়। নিয়মিত অভ্যাস করলে অনিদ্রা দূর হওয়া বা মানসিক প্রশান্তির মতো পরিবর্তনগুলি খুব দ্রুত লক্ষ্য করা যায়। তবে শরীরের গঠন পরিবর্তন বা দীর্ঘদিনের ব্যথা কমতে কিছুটা সময় লাগে। এখানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হল সাফল্যের চাবিকাঠি। এখানে মূল বিষয় হল ধারাবাহিকতা এবং সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ। ধৈর্য ধরে অনুশীলন করলে ভেতর থেকে পরিবর্তন অনুভূত হবে।
এই ধারণাটি অনেককে যোগ শুরু করতে বাধা দেয়। অনেকে ভাবেন শরীর নমনীয় বা ফিট না হলে যোগ করা সম্ভব নয়। আসলে যোগ কোনো নির্দিষ্ট শরীর বা বয়সের জন্য তৈরি হয়নি। যে কেউ নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। শরীর যতটুকু সায় দেবে, সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করা উচিত। নমনীয়তা বা ফিটনেস হল যোগের নিয়মিত অভ্যাসের ফলাফল, এটি শুরু করার কোনো পূর্বশর্ত নয়।
যোগ সহজ মনে হলেও এটি কিন্তু সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া বা ভুল পদ্ধতিতে আসন করলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নিজের শরীরের সংকেত বুঝে আসন করা উচিত এবং জোর করে কিছু করা ঠিক নয়। যোগকে কেবল ব্যায়াম হিসেবে না দেখে নিজের যত্ন নেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করুন। এটি নিজের আত্মার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি পথ। সঠিক নিয়ম মেনে এবং নিয়মিত অনুশীলনের (Yoga) মাধ্যমেই আপনি দীর্ঘকাল নীরোগ ও প্রাণবন্ত থাকতে পারবেন।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…